কোরিয়ান সিনেমার আকর্ষণ কী?
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২১ ১২:৫৩:৫৩

অ্যাকশন, থ্রিলার ও রোমান্টিক। তিন বিভাগেই বিশ্ব মাত করছে। কিছু সিনেমা যেমন আবেগে টইটম্বুর তেমনি কিছু থ্রিলার গা ছমছম করে দিবে। শ্বাস নিতে প্রায় ভুলিয়ে দিবে আপনাকে। তাঁদের সিনেমার গল্প ও গল্প বলার ঢং ছবি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখে দর্শকদের।
একটা সময়ে এশিয়ার ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির মধ্যে এগিয়ে ছিল চীন আর হংকং নির্ভর ছবিগুলো। মান, বাজেট, টেকনিক্যাল সব দিক থেকেই। কিন্তু সময় যেমন বদলেছে, বদলেছে মানুষের রুচি, দৃষ্টিভঙ্গি। নতুন কিছু চাইবার আবদার আগে থেকেই জন্মেছিল দর্শকের মনে। সেই ইচ্ছাকে উস্কে দিল কোরিয়ার চলচ্চিত্র পরিচালকরা। তাঁদের সক্ষমতা আর অনন্যতা দিয়ে। শুরু হলো চলচ্চিত্র জগতের কোরিয়ান মুভিস নামের নতুন পরাশক্তির পথচলা।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কোরিয়ার সিনেমার সাম্প্রতিক সাফল্যও ঈর্ষণীয়। অবাক করা বিষয়, কোরীয় চলচ্চিত্র স্থানীয় বাজারের ৬০ শতাংশ শেয়ার দখল করে রেখেছে। নিজ দেশের চলচ্চিত্র বাজারে এমন রাজত্ব করা দেশ মাত্র তিনটি। কোরিয়া ছাড়া বাকি দুটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। এমনকি কোরিয়ান সিনেমা এখন বলিউডেও নিয়মিত রিমেক হচ্ছে।
কোরিয়ান সিনেমা নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই থ্রিলার নিয়ে বলতে হয়। থ্রিলারের মধ্যে সিরিয়াল কিলার ধাঁচের সিনেমা আবার বেশি জনপ্রিয়। কোরিয়ান সিরিয়াল কিলার সিনেমার ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। ২০০৩ থেকেই মূলত নজর পড়া শুরু করেছে বিশ্ব চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে। অবশ্য এর আগেও `টেল মি সামথিং-১৯৯৯`, `এইচ-২০০২` সিনেমাগুলো হয়েছে। কিন্তু এর পরবর্তী সময়ের সিনেমাগুলো একটু বেশিই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
২০০৩ সালে পরিচালক বং-জুন হ তৈরি করেন সিরিয়াল কিলার মুভি `মেমোরিজ অফ মার্ডার` এবং সাড়াও পেলেন প্রচুর। কোরিয়ান সিনেমাপ্রেমী না হলেও এ সিনেমাটি দেখে থাকতে পারেন। অসাধারণ পরিচালনা, দুর্দান্ত অভিনয় এবং চোখ ধাঁধাঁনো সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে তৈরি `মেমোরিজ অফ মার্ডার` নিঃসন্দেহে মনে দাগ কেটে থাকবে।
এর পরে পরের যে নামটি সবচেয়ে আলোচিত, তা হলো `দ্যা চেজার (২০০৮)`। এটিও সত্যিকারের সিরিয়াল কিলার ইউ-উয়ং-চুল-এর জীবন নিয়ে নির্মিত। ভয়ানক এক গল্প। পরিচালক হং-জিন-না অসাধারণ সাসপেন্স ধরে রেখে মুভিটি তৈরি করেন এবং প্রচুর পুরস্কারও বাগিয়ে নেন। ২০০৮ সালে সাউথ কোরিয়ায়সবচেয়ে জনপ্রিয় মুভি হিসাবে তৃতীয় অবস্থানে ছিল।পরবর্তীতে বলিউডে রিমেক করা হয় মুভিটি মার্ডার টু নামে।
২০১০ সালে মুক্তি পায় `আই স দ্য ডেভিল`। যদিও এইটা রিভেঞ্জ মুভি। পরবর্তীতে সিনেমাটি বলিউডে ‘এক ভিলেন’ নামে রিমেক করা হয়। একই নির্মিত`মিডনাইট এফএম` ও ২০১১ সালে নির্মিত আরেক ব্লকবাস্টার মুভি `দ্যা ব্লাইন্ড’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। প্রত্যেকটি মুভির মেকিং অসাধারণ। আর এইমুভিগুলো কোরিয়ান সিনেমা ইতিহাসেও প্রভাব ফেলেছে।
কোনো ড্রামাটিক সিনেমায় আপনার একঘেয়েমিতা আসতে পারে। অ্যানিমেশন সিনেমাও সবসময় ভালো লাগবে না। কিন্তু কোন মুভিতে একই সঙ্গে যদি থাকে সাসপেন্স, থ্রিল আর রহস্যের কম্বিনেশন, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায় সেই মুভিটা আপনার আগ্রহ ধরে রাখবেই। একজন কিলার আর ডিটেকটিভের ক্যাটঅ্যান্ড মাউজ গেম যখন মুভিতে দ্রুত ঘটতে থাকে, তখন কিন্তু দর্শকের অন্য কিছু ভাবার সুযোগ থাকেনা।
কোরিয়ান কিছু রোমান্টিক মুভিও আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায় ‘এ মোমেন্ট টু রিমেম্বার’, ‘দ্যা ক্ল্যাসিক’, ‘পেইনড’,‘মাই সাসি গার্ল’, ‘লাভ ফরকাষ্ট’, ‘মোর দ্যান ব্লু’ অলওয়েজ’, ‘এ মিলিনিওর ফাষ্ট লাভ’, ‘মাই লিটেল ব্রাইড’,‘স্প্রিং সামার ফল’,।
কোরিয়ান সিনেমা ইতিহাসে আরও কিছু নাম না বললেই নয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায় ‘জয়েন্ট সেক্রেটারি এরিয়া’, ‘দ্যা গুড দ্যা ব্যাড দ্যা ওয়ার্ড’, ‘দ্যা থিভস’, ‘দ্যা ওয়ালিং’, ‘মাদার’, ‘দ্যা এডমিরাল’, ‘দ্যা ইওলো সি’, ‘নিউ ওয়ার্ল্ড’, ‘ থ্রি আইরন’, ‘কোল্ড আইস’,‘দ্যা আসাইনেশন’,‘ব্যাটল শিপ আইসল্যান্ড’, ‘অড মাই ফাদার’।
কোরিয়ান সিনেমা থেকে বলিউডে রিমেক হয়েছে এমন কিছু সিনেমা হল ‘মন্তাজ’ থেকে ‘টিন’। ‘দ্যা ম্যানস ফ্রম নাউহোয়ার’, থেকে ‘রকি হ্যাণ্ডসাম’,‘সেভেনডেজ’ থেকে ‘জাজবা’,‘আই স ড্যা ডেবিল’ থেকে ‘ভিলেন’, ‘ওল্ড বয়’ থেকে ‘জিন্দা’, ‘দ্যা চেজার’ থেকে ‘মার্ডার ২’, ‘এ বেটার সুইট লাইফ’ থেকে‘আওয়ারাপান’, ‘অলওয়েজ’ থেকে ‘দো লাফজোকা কাহিনী, কথা চলছে ‘মিরাকেল ইন সেল নাম্বার সেভেন’ সহ আরো কিছু সিনেমা বলিউডে রিমেক হবে।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













