স্মার্টফোন বাজারে চ্যালেঞ্জের মুখে অ্যাপল
ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১২ ০৯:১১:৩১

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন বাজার ভারত। বাজারটি ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে দেশটির স্মার্টফোন বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল। দেশটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণে পাঁচটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
প্রথমত, ভারতের মোবাইল গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা প্রতিদিন গড়ে ৫-১০টি স্প্যাম কল ও অসংখ্য মেসেজ পান। তাই স্প্যাম মেসেজ ও কল ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই)। প্রত্যেক ডিভাইস নির্মাতাকে দুই বছরের জন্য ভারত সরকারের অ্যান্টি-স্প্যাম অ্যাপ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাই। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অ্যাপল এ অ্যাপ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মাসে ট্রাই জানিয়েছে, অ্যাপল তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে দেশের নেটওয়ার্ক থেকে আইফোন প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। এর ফলে ট্রাইয়ের নির্দেশনা না মানলে ভারতের বাজারে নিষিদ্ধ হতে পারে আইফোন।
দ্বিতীয়ত, ভারতের স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের দখল মাত্র ১ শতাংশ। দেশটিতে ডিভাইস বিক্রি বাড়াতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনভিত্তিক শাওমির কাছে ভারতের বাজারে শীর্ষ অবস্থান হারালেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা পুনরুদ্ধার করেছে স্যামসাং। বাজারটিতে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হ্যান্ডসেট দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে স্যামসাং ও শাওমি। চড়া মূল্যের আইফোন ডিভাইস দিয়ে ভবিষ্যতে অ্যাপলের ব্যবসায় সাফল্য না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তৃতীয়ত, ভারতে ডিভাইস উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের জন্য কর রেয়াত সুবিধা চেয়েছিল অ্যাপল। তবে প্রতিষ্ঠানটির আহ্বানে এখনো সাড়া দেয়নি দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক এড়াতে ভারতে এমন প্রস্তাব করেছে অ্যাপল। কারণ অধিক শুল্কের কারণে ভারতে আইফোনের দাম বেড়েছে। এর ফলে তাদের ক্রেতা কমছে।
চতুর্থত, ভারতের বাজারে ফোন বিক্রি বিষয়ে অ্যাপলের সরাসরি সেলস চ্যানেলের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি দেশটির বাজারে দখল বাড়াতে পারছে না।
পঞ্চমত, স্মার্টফোন যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক আরোপের সময় নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের কাছ থেকে সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে অ্যাপল। এর ফলে অ্যাপলের ডিভাইসের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে গ্রাহকদের ওপর। স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানিকৃত স্মার্টফোন যন্ত্রাংশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে মোদি প্রশাসন।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের তথ্য বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ৩ কোটি ২৬ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন সরবরাহ করেছে, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ২ কোটি ৬৮ লাখ ইউনিট। প্রান্তিকটিতে অ্যাপলের আইফোন সরবরাহ এক বছর আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ কমেছে।
ভারতে অ্যাপল লো-এন্ডের দুটি মডেলের আইফোন সংযোজন করে আসছে। ফলে অন্য মডেলের ফোনগুলোর দাম বেশি পড়ছে। ভারতে একটি আইফোন টেনের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের দামের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।
স্যামস্যাং ইলেকট্রনিকস ভারতে যেসব ফোন সরবরাহ করছে, তার সবই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে আসছে। গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্টটি ভারতের নয়ডায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা চালু করেছে। এ কারখানায় উৎপাদিত ডিভাইস প্রতিবেশী দেশগুলোয় রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্যামসাং।
ভারতের স্মার্টফোন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখলে রেখেছে চীনভিত্তিক শাওমি। চলতি সপ্তাহে শাওমি জানিয়েছে, আগামী তিন বছরে তাদের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী হলিটেক টেকনোলজি ভারতে ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। অন্ধ্র প্রদেশের তিরুপতি নামক স্থানের একটি প্লান্টে হলিটেক স্মার্টফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করবে। এসব যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে— ক্যামেরা মডিউল, থিন ফিল্ম ট্রানজিস্টার ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।
ভারতের বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ড মূল্যছাড় দিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অনলাইন ও অফলাইনে তারা ডিভাইস ক্রয়ে ছাড় দেয়। তবে অ্যাপল দাম একই রাখায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির ডিভাইস বিক্রি বাড়ছে না।
ভারতে রিটেইল স্টোর চালু করতে চায় অ্যাপল। তবে ভারত সরকারের শর্তপূরণ না করায় তা সম্ভব হচ্ছে না। শর্ত রয়েছে, ভারতে রিটেইল স্টোর চালু করতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ভারতে তাদের ৩০ শতাংশ পণ্য উৎপাদন করতে হবে।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













