আর মাত্র তিনদিন পরেই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। অথচ এখনও মিরপুরের ফ্যাশন হাউসে কেনাকাটা জমে ওঠেনি। শপিংমলের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রাস্তার পাশে ফুটপাতের দোকানিরা বেচাকেনা নিয়ে বেশ হতাশ বলে জানিয়েছেন। তবে সারাদিন ক্রেতার আগমন কম হলেও সন্ধ্যার থেকে রাত পর্যন্ত কিছুটা ভিড় সৃষ্টি হলেও শুধু শিশু ও নারীদের ড্রেস বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শনিবার (১৮ আগস্ট) মিরপুরে বুটিক পল্লীসহ বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সগুলো ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদ কালেকশনে দোকান সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এর ওপর দেয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৮০ শতাংশ মূল্য ছাড়ের নানা লোভনীয় অফার। শিশু ও নারীদের ড্রেস কিছুটা হলেও ছেলেদের ড্রেস বিক্রি খুবই কম। মিরপুরে ঈদ মার্কেট এখনও জমে ওঠেনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মূলত কোরবানি পশু কেনাকাটা নিয়ে সকলে ব্যস্ত থাকায় ড্রেস কেনার প্রতি আগ্রহ কম। এছাড়া ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর জেলা পর্যায়ে শাখা থাকায় অনেকে বাড়ি গিয়ে নিজ জেলা থেকে কেনাকাটা করছেন। অনেকে আবার বিদেশ গিয়ে কেনাকাটা করছেন। ফলে এটাও ঈদ বাজার জমে না ওঠার অন্যতম কারণ।
জানা গেছে, ঈদের কেনাকাটা সারতে মিরপুরবাসী এখন আর দূরে যান না। কারণ নামকরা সব বুটিক হাউসের শাখা এখন মিরপুরে রয়েছে। বুটিক হাউসের পাশাপাশি মিরপুরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি শপিং কমপ্লেক্স। আর তরুণ প্রজন্মের জন্য লাইফস্টাইল স্টোরের মধ্যে আছে আড়ং, আম্বার, এক্সটাসি, লা রিভ, টেক্সমার্ট ও স্মাটেক্সের শোরুম।
বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে বিক্রি শুরু হলেও ঈদের বাজার এখনও জমেনি। তবে গরমে দিনে ক্রেতাদের সমাগম কম হলেও সন্ধ্যার পর থেকে কিছুটা ভিড় হচ্ছে। শিশু ও নারীদের ড্রেস বিক্রি হচ্ছে বেশি। সীমিত হারে বিক্রি হচ্ছে ছেলেদের পাঞ্জাবি। তবে কোনো দোকানে আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন দোকানিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুরে প্রায় শতাধিক বুটিক হাউসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা আসছেন। কেউ কেউ কাপড় দেখে চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজেদের পছন্দমতো পোশাক ক্রয় করছেন। এছাড়া ফুটপাতে বসা অস্থায়ী দোকান থেকেও বাছাই করে কেনাকাটা সারছেন অনেকেই।
মিরপুরের বুটিকপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, অরিজিনাল ১০ নম্বর থেকে শুরু করে গোল চক্কর হয়ে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত একশোর বেশি বুটিক ও ফ্যাশন হাউস নতুন পোশাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দেশি পোশাকের জন্য ‘নায়রী’তে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এখানে ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যামব্রয়ডারি কাজের শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে। আরও আছে পাঞ্জাবি ও কিডস আইটেম।
এছাড়া দেশি ফ্যাশন হাউসের মধ্যে মিরপুর-২ নম্বরে ‘কে-ক্রাফট’, ‘সারা’ ‘ভেরিয়েন্ট টার্চ’ ‘মি অ্যান্ড মম’ ‘আঙিনা’ ‘রিচ ম্যান’ ‘নবরূপা’ ‘বাংলার মেলা’ পালকি, কিংসুক প্রথমা, টি-২, নকশিসহ বেশ কিছু দোকানই ছিলো ক্রেতা শূন্য। বিশেষ করে ক্রেতারা এসব জায়গায় শাড়ি, সুতির সালোয়ার-কামিজ, বেবি ড্রেস, পাঞ্জাবি ও ঘর সাজানোর সামগ্রী কিনছেন। ঈদকে সামনে রেখে এসব দোকানে ১০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে।
রেডিয়েন্ট টার্চ নামে একটি দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. আনোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার ঈদে দেশি-বিদেশি নতুন কালেকশন থাকলেও তেমন বিক্রি হচ্ছে না। বিকেলে কিছুটা বিক্রি হলেও গত কোরবানির ঈদের চাইতে বিক্রি কম হচ্ছে। যারা কিনছেন তাদের অধিকাংশই সুতির ড্রেসের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’ ক্রেতাদের পছন্দে তারা সুতির নানা ধরনের ড্রেস কালেকশন করেছেন বলে তিনি জানান।
সনি সিনেমা হলের বিপরীতে রেড ক্রিসেন্ট সিটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি ফ্যাশন হাউস। এর মধ্যে অন্যতম আড়ং। রুচিশীল ক্রেতাদের কাছে বরাবরই ঈদের কেনাকাটায় আড়ং পছন্দের শীর্ষে।
আড়ংয়ের কর্মীরা জানান, ঈদের পোশাক বিক্রি শুরু হয়েছে। পল্লবী থেকে আড়ংয়ে আসা ক্রেতা ইমন হাসান জানান, আগে আড়ংয়ের পোশাক কিনতে আসাদ গেটে যেতে হতো। এখন মিরপুরে হওয়ায় তারা এখানেই আসেন। তিনি বাচ্চাদের জন্য ড্রেস কিনতে এসেছেন।
তরুণ-তরুণীর কাছে ফ্যাশন হাউস ‘লা রিভ’-এর পোশাকও বেশ পছন্দের। পাশ্চাত্য ঘরানার পোশাক নিতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরকে লা রিভে ভিড় করতে দেখা গেছে।
তবে এবারের ঈদে দেশি পোশাকের চাইতে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বেশি। তার মধ্যে ভারতীয়, পাকিস্তানি, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে রেডিমেট পোশাক কালেকশন করেছেন বিক্রেতারা। এছাড়া মিরপুরে বড় ব্র্যান্ডের দোকান চলে আসায় বুটিকের দোকানে বিক্রি কমে গেছে বলে অভিযোগ অধিকাংশ ছোট দোকানির।