তথ্যনিরাপত্তায় ব্যয় ছাড়াবে ১২৪ বিলিয়ন ডলার

ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৯ ২৩:২২:২১


২০১৯ সালে তথ্যনিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবা বাবদ ব্যয় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৪০০ কোটি (১২৪ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাবে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

গার্টনারের তথ্যমতে, চলতি বছর বৈশ্বিক তথ্যনিরাপত্তা পণ্য ও সেবা বাবদ ব্যয় ১১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা এক বছর আগের চেয়ে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

বিবৃতিতে গার্টনারের গবেষণা পরিচালক সিদ্ধার্থ দেশপাণ্ডে জানান, বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব পণ্যের মাধ্যমে ব্যক্তি এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা বাড়ছে। তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি প্লাটফর্ম ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের ব্যবসায় ঝুঁকি এড়াতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার অভাবেও তথ্য হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা বাড়ছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল ডাটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) কার্যকর হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী তথ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে, যা তথ্যনিরাপত্তা সেবা বাজারের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গার্টনার পরিচালিত গত বছরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ব্যয়ের সিংহভাগ ঝুঁকি মোকাবেলা, ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পের পরিবর্তনে চলে যাচ্ছে। আগামী বছরজুড়ে তথ্যনিরাপত্তা ব্যয় ক্রমান্বয়ে বাড়বে, যা আইডেন্টিটি ও অ্যাকসেস ম্যানেজমেন্ট (আইএএম), আইডেন্টিটি গভর্ন্যান্স ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইজিএ) এবং ডাটা লস প্রিভেনশন (ডিএলপি) খাতে ব্যয় বাড়াবে।

চলতি বছর সবচেয়ে বড় তথ্যচুরির ঘটনার শিকার হয় সিংহেলথ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ওই ঘটনায় সিঙ্গাপুরের ১৫ লাখ রোগীর স্বাস্থ্যসম্পর্কিত ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হয়। কাজেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং আইটি সিস্টেমসের নিরাপত্তা জোরদার কতটা জরুরি, তা এ ঘটনা থেকে প্রমাণিত।

সিদ্ধার্থ দেশপাণ্ডে বলেন, নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা যেকোনো ডিজিটাল ব্যবসা উদ্যোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ কারণে প্রতি বছর বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ছে। ইন্টারনেট মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেবাটি থেকে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং এর বহুমুখী ব্যবহার উপযোগিতার ফলে প্রতিনিয়তই গ্রাহক বাড়ছে। বিশ্বনেতাদের পক্ষ থেকেও তথ্যপ্রযুক্তিকে দিনবদলের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে কেন্দ্র করে গ্রাহকের গোপনীয়তা এবং তথ্যনিরাপত্তার বিষয়টি এখন আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহক তথ্যের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে তথ্যনিরাপত্তা বাবদ ব্যয় বাড়ছে দ্রুত।

বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বাবদ ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। কারণ নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের নিয়মিত নিরাপত্তা পণ্য ক্রয়ের পরামর্শ দিচ্ছেন। তথ্য নিরাপত্তা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট (এসআইইএম) এবং সিকিউর ওয়েব গেটওয়ে (এসডব্লিজি) সলিউশন গ্রাহকদের নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দিচ্ছে।

বিভিন্ন অর্গানাইজেশন এখন দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত এবং কার্যকর সমাধান পেতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দৃঢ় হলে নানা ম্যালওয়্যার আক্রমণ ঠেকানো ও ব্লক করা সম্ভব। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হওয়া রোধ করা যায়। বিশ্লেষকরা দৃঢ়ভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্যনিরাপত্তা বাবদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষ কর্মীর ঘাটতিও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত এবং সে অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে আরো খারাপ সময় আসছে, যখন অভ্যন্তরীণ দক্ষতা এবং টুল ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ত্রুটিজনিত হুমকি শনাক্ত ও সমাধান করতে হবে। বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে পরিচালিত বাইরের ও অভ্যন্তরীণ হামলাগুলো বেশ সুগঠিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাউড সেবার প্রসার ঘটছে দ্রুত। এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হলে নিরাপত্তা সফটওয়্যার বাজারে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিরাপদ ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সফটওয়্যার নিরাপত্তা বাবদ ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব।