বহুল আলোচিত 'একটি বাড়ি একটি খামার' এবং 'চর জীবিকায়ন' প্রকল্পের আদলে কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার হতদরিদ্রের হার কমাতে বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এক লাখ ৩০ হাজার হতদরিদ্র মানুষকে বিভিন্ন ধরনের আয়বর্ধক কাজে যুক্ত করতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই জেলার হতদরিদ্রদের মধ্যে গবাদি পশু ও উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কাজের দক্ষতা উন্নয়নেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে থাকবে নানা উদ্যোগ। এতে ব্যয় হবে ৪০৫ কোটি টাকা। এ বছরে প্রকল্পের কাজ শুরু করে আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রকল্পের সুফলভোগী নির্বাচনে কাজ করবে। আরডিএর পাশাপাশি বিআরডিবি সচেতনতা ও দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ এবং সমবায় অধিদপ্তর কৃষি ও হস্তশিল্প পণ্যের বাজারজাতকরণে সহায়তা করবে। আরডিএ উদ্ভাবিত মডেল ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জেলা দুটির হতদরিদ্রের হার কমানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, জামালপুর জেলার দারিদ্র্যের হার ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং হতদরিদ্রের হার ৪৬ দশমিক ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম জেলার দারিদ্র্যের হার ৭০ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং হতদরিদ্রের হার ৬৪ দশমিক ২০ শতাংশ।
বাংলাদেশের জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। জেলাভিত্তিক দারিদ্র্যের হার অনুযায়ী দারিদ্র্যপ্রবণ প্রথম ১০টি জেলার মধ্যে কুড়িগ্রামের অবস্থান প্রথম (৭০ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং জামালপুর জেলার অবস্থান সপ্তম (৫২ দশমিক ৫ শতাংশ)।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, বিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে এ ধরনের প্রকল্পের এলাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তা ছাড়া এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনের বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, এক লাখ ৩০ হাজার সুফলভোগীর মধ্য ৫০ হাজার জনকে বিনামূল্যে গরু দেওয়া হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পভুক্ত প্রতি উপজেলায় একটি করে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, একটি করে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, একটি করে মাছ উৎপাদন, গবাদি পশু পালন ও উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করা হবে। প্রকল্প এলাকায় আরডিএ উদ্ভাবিত পানির বহুমুখী ব্যবহার কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎবঞ্চিত এলাকায় সৌরশক্তিনির্ভর সড়কবাতি বসানো হবে।
আরডিএর তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, পাবনা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর জেলার চর এলাকায় বাস্তবায়িত চর জীবিকায়ন কর্মসূচি নামে একটি প্রকল্পের আওতায় এক লাখ ৩৩ হাজার হতদরিদ্রকে চরম দারিদ্র্যসীমার ওপরে আনা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া সারাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ দুই প্রকল্পের মডেল অনুসরণ করে কুড়িগ্রাম ও জামালপুল জেলার দারিদ্র্য কমাতে আলোচ্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গতকাল প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় উত্থাপবে সুপারিশ করা হয়েছে।