সরকারের হৃদয় আগ্নেয় শিলায় গঠিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গলিত ম্যাগমা কিংবা লাভা ভূ-অভ্যন্তরেই কিংবা ভূ-পৃষ্ঠে এসে ঠাণ্ডা হওয়ার পর জমাটবদ্ধ হয়ে যে শিলা গঠন করে— সেটিই আগ্নেয় শিলা। ব্যাসল্ট, গ্রানাইট, সিয়েনাইট প্রভৃতি আগ্নেয় শিলার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আগ্নেয় শিলা ‘কঠিন’ শিলা হিসেবেও পরিচিত।
বর্তমান সরকারকে এই আগ্নে শিলার সঙ্গে তুলনা করে রিজভী বলেন, প্রায় আড়াই ঘন্টা কারা ফটকের বাইরে আত্মীয়-স্বজনদের অপেক্ষায় রেখে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেখা করতে দিলেও বাসা থেকে আনা খাবার ভেতরে নিতে দেয়নি। সকাল থেকে অভূক্ত অবস্থায় দেশনেত্রী অপেক্ষা করছিলেন স্বজনদের সঙ্গে আহার করবেন। অনেক দিন পর প্রিয় নাতনীকে সাথে নিয়ে খাবেন। কিন্তু সরকারকে খুশি করতে কারাকর্তৃপক্ষ খাবার নিতে দেয়নি।
অভূক্ত বেগম জিয়া বুকফাটা হাহাকারে নাতনী ও আত্মীয়দের সাথে খাবার খেতে পারলেন না। স্বজনদের সাথে নিয়ে একসঙ্গে খাওয়ার যে আশায় তিনি সারাদিন অভূক্ত থাকলেন, সে আশা তার পূর্ণ হলো না। বাবাহারা নাতনীও এক বিশাল শূন্যতা নিয়ে দাদির ওপর সরকারি নির্দয়তার বীভৎসরূপ দেখে বুকফাটা কান্না নিয়ে ফিরে আসে’— বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘র্তমান ভোটারবিহীন সরকারের স্বৈরতন্ত্র বিবর্তীত হয়ে নাৎসীবাদ অতিক্রম করে ভয়ংকর হানাদারি শক্তিতে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পর্যুদুস্ত করতে অবৈধ সরকার যে দমননীতির উত্থান ঘটিয়েছে, তা নজীরবিহীন ও হিংসাশ্রয়ী। প্রধানমন্ত্রী যেন ব্যক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করতেই তাদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রকে যথেচ্ছ ব্যবহার করে যাচ্ছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর শরফত আলী সপু, এম এ মালেক, মুনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।