ফেসবুকে নিষিদ্ধ মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৭ ১৯:৩২:৫৮


রোহিঙ্গা নিধনে জড়িত থাকায় মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাংকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। সোমবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশিত জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার জন্য জন্য তাকে দায়ী করার পর এমন ব্যবস্থা নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।

দেশটির সেনাপ্রধান ছাড়াও আরো ২০ জন বার্মিজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করেছে তারা। সোমবার নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ফেসবুক।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতা সত্যিই ভয়ঙ্কর। ফেসবুকে ঘৃণা এবং অপব্যবহার রোধের জন্য আমরা এ মাসের শুরুতেই কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছি। শুরুতে ধীরগতিতে এ কাজ চললেও এবার ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছাড়ানোর বিরুদ্ধে আরো উন্নত প্রযুক্তি ও অনেক লোকবলের সাহায্যে সামগ্রিক পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

‘এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আজ আমরা মিয়ানমারের মোট ১৮ জনের ফেসবুক একাউন্ট, ১ জনের ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট এবং ৫২টি ফেসবুক পেজকে মুছে দিয়েছি। অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ লোক এই পেজগুলোকে অনুসরণ করতো। তবে মুছে ফেলা একাউন্ট ও পেজের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করে রেখেছি আমরা।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ হওয়াদের তালিকায় সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাং ছাড়াও দেশটির সেনাবাহিনীর প্রচারে নিয়োজিত ‘মিওয়াদি’ টেলিভিশন নেটওয়ার্কও রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা জানতে পেরেছি যে, এইসব লোক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ও তাদের ফেসবুক একাউন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পেজগুলো থেকে জাতিগত সহিংসতা উস্কে দেওয়ার বার্তা ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের সেবা ব্যবহার করে এ ধরণের জাতিগত এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে চাই আমরা।

এর আগে, মিয়ানমারে সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাংয়ের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্যানেল। সোমবার এক প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করার পর এই মন্তব্য করে কমিটি। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসম্যান বলেন, মিয়ানমার সেনাপ্রধানের এখন পদত্যাগই একমাত্র পথ।