দীর্ঘদিন পর কোনো অপ্রিতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হলো জাতীয় দাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকী উপলক্ষ্যে শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
দীর্ঘদিন যাবত এই ধরণের বড় সমাবেশ করতে না পারায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষীকীর সমাবেশে ব্যাপক লোকজনের সমাগম হয়েছে। তবে তুলকালাম কান্ড ঘঠিয়েছে নারায়ণগঞ্জের আইড়াই হাজার থানা বিএনপি। সমাবেশ সফল করার জন্য ব্যাপক লোক সমাগম করেছে থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে দলের প্রার্থী হতে চান তিনি।

সরজমিনে দেখা যায়, নটরডেম কলেজের দক্ষিণ গেইট থেকে আরামবাগের মোড় পর্যন্ত মাহমুদুর রহমান সুমনের সমর্থকদের পদচারণা। সবার দাবী একটাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তরুণ এই প্রার্থীকে চায় আইড়াই হাজার থানা বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা। তাদের মতে, বাপের সব ধরণের আচার-আচরণ আছে সুমনের মধ্যে। বাপের মতো জনগণের সেবক হিসেবে সুমনকে পেতেও আগ্রহী আড়াইহাজার থানা বিএনপি।
এ বিষয়ে জহির নামের এক বিএনপি সমর্থক বলেন, সদ্য প্রয়াত বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খান খসরুর সব গুনাবলী তার মধ্যে আছে। তিনি সব সময় এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করতেন। তিনিও তার বাপের মতো হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেই জন্য তাকে তারা চান।
এ বিষয়ে সুমন বলেন, বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। সবাইকে নিয়ে আড়াইহাজার উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রুপ দিতে চাই। অন্যদিকে আজকের জনসভাকে ভিন্নভাবে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, এই জনসভার মাধ্যমে আমাদেও মা, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন চলছে তার নতুন ধাপ শুরু হবে। এই জন্য আজকে আড়াইহাজার থানা বিএনপির এই ব্যাপক শোডাউন।
[caption id="attachment_47623" align="alignright" width="3711"]
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসন থেকে দলের প্রার্থী হতে চান মাহমুদুর রহমান সুমন[/caption]
এদিকে, দলটির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আড়াইহাজার বিএনপি আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাহমুদুর রহমান সুমনের প্রার্থীতার ঘোষণাকে পুনরায় সমর্থন দেন।
প্রসঙ্গত, বদরুজ্জামান খান খসরু ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতি। নারায়ণগঞ্জ ও কেন্দ্রীয় বিএনপির জনপ্রিয় এই নেতার অনুপস্থিতিতে রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হয়েছেন তার ছেলে সুমন।
এদিকে, আড়াইহাজার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদুর রহমান সুমন। সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপির এক অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীরা সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সুমনকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি বদরুজ্জামান খান খসরুর ছোটভাই সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর নিজেও চাইছেন ভাতীজা (সুমন) নেতৃত্বে আসুক। গত ১১ জুলাই বদরুজ্জামান খান খসরুর মৃত্যুতে অভিভাবক হারান আড়াইহাজার বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে এক মাসের মাথায় সব ক’টি গ্রুপের নেতাকর্মীরা একযোগে ঘোষণা দেন তাদের মধ্যে আর কোনো বিভেদ থাকবে না। মাহমুদুর রহমান সুমনকে আগামী দিনের নেতা হিসেবে বেছে নেন তারা। আর তরুণ এই নেতাকে কাছে পেয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে উৎসবমুখোর উদ্দীপনা নিয়ে অংশ নিচ্ছেন।
[caption id="attachment_47624" align="alignright" width="4450"]
ছবিতে মাহমুদুর রহমান সুমন[/caption]
আড়াইহাজার থানা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ সংসদীয় আসন। এই আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা শুরু করেছেন আগাম জনসংযোগ। আড়াইহাজারে দলীয় অবস্থান এবং সমর্থকদের দিক দিয়ে বিএনপি বরাবরই শক্তিশালী। বদরুজ্জামান খান খসরু ছিলেন আড়াইহাজার বিএনপির প্রধান কাণ্ডারি। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ১৯৯১ সালে বদরুজ্জামান খান খসরু আড়াইহাজার উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তার আপন ছোটভাই আতাউর রহমান আঙ্গুরকে বিএনপির মনোনয়ন এনে দেন। যদিও তখন আঙ্গুর কোনোপ্রকার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে আঙ্গুর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংস্কারবাদী হওয়ায় আতাউর রহমান আঙ্গুরকে মনোনয়ন দেয়নি দলীয় হাই কমান্ড। এই নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান বদরুজ্জামান খান খসরু। কিন্তু সাবেক এমপি আঙ্গুরের বিরোধীতার কারণে ৮৭ হাজার ভোট পেয়েও আসনটি হাতছাড়া হয় বিএনপির। আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর দখলে।