
এলএনজিতরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এলেও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। এলএনজি আসায় গ্যাস সরবরাহে কী উন্নতি হচ্ছে, তা এখনও বুঝে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে হলে আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এরআগে নতুন করে আবাসিকে গ্যাস দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন বলে জানান জ্বালানি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংশ্লিষ্টরা।
সারাদেশে বিতরণ কোম্পানিগুলোর দুই হাজার শিল্প সংযোগের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বলা হচ্ছে, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংযোগ পাবে। অনুমোদন পেলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাস পেয়ে যাবে, এমনটি নয়। এলএনজি এলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্যাস দিতেই হিমশিম খাবে বিতরণ কোম্পানি।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, বাসাবাড়িতে গ্যাস দেওয়ার জন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন যে পরিমাণ বাড়ানো উচিত, তা হচ্ছে না। এখন যে গ্যাস আমদানি করা হয়, তার দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। কাজেই সরকার এই গ্যাস শিল্পে ব্যবহারের পক্ষে। বিশেষ করে আমদানিকৃত এলএনজির বড় অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করতে চায়।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাসাবাড়িতে আর গ্যাস দেওয়ার পক্ষে নয় সরকার। এমনকি অপরিকল্পিত শিল্পায়নেও সরকার গ্যাস দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করছে।’
জ্বালানি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন এলএনজি সরবরাহ চট্টগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম রিং-মেইন পাইপ লাইনের দৈনিক সরবরাহ ক্ষমতা ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সঙ্গত কারণে আনোয়ারা ফৌজদারহাট গ্যাস পাইপ লাইনের কাজ শেষ না হলে এলএনজি পূর্ণমাত্রায় সরবরাহও করা যাবে না। তবে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে ওই গ্যাস দেশের অন্য এলাকায় সরবরাহ করা হলে সংকট কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতেও খুব বেশি উন্নতির আশা নেই। কারণ এখনও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি ঘাটতি রয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝিতে এলএনজির সরবরাহ আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়লে আবাসিকের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তিতাসের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে গ্যাস সংযোগ রয়েছে, এমন বাড়িতে নতুন চাহিদা তৈরি হলে গ্যাস দেওয়ার জন্য একবার আলোচনা হলেও শেষপর্যন্ত তা ফলপ্রসূ হয়নি।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘একবার বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত হলে এই সুযোগ বিভিন্ন পক্ষ নিতে পারে, এমন ধারণা থেকেই জ্বালানি বিভাগ ওই পদক্ষেপ থেকেও সরে আসে।’ বিতরণ কোম্পানির সঙ্গেও বাসাবাড়িতে গ্যাস দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনও আলোচনা হয়নি। ফলে হুট করে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না সরকার। বাসাবাড়িতে গ্যাস দিতে হলে কী পরিমাণ চাহিদা তৈরি হবে, সে বিষয়ে আগে জরিপ করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান বলেন, ‘বাসাবাড়িতে গ্যাস দেওয়ার বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।এটি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।নীতি-নির্ধারকরা বলতে পারেন, আসলে কী হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রথম দফায় ২০১০-এ গৃহস্থালির সংযোগ বন্ধ করার সময় বলা হয়েছিল, গ্যাসের উৎপাদন দৈনিক ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছলে আবার সংযোগ উন্মুক্ত করা হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে আগে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের শেষের দিকে আবার অনানুষ্ঠানিকভাবে আবাসিকের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় জ্বালানি বিভাগের তরফ সব বিতরণ কোম্পানিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সংযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিতরণ কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন নতুন করে আর কোনও গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। যদিও এরপরও কিছু কিছু গ্যাস সংযোগ দেওয়া অব্যাহত ছিল।