বাংলাদেশে আর ওষুধ প্রস্তুত করবে না যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে)। লোকসানের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কারখানা বন্ধের আগে স্বেচ্ছা অবসরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রোববার স্বেচ্ছা অবসরের প্রস্তাব দেওয়ার সময়সীমা আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে।
কোম্পানির পর্ষদে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের পর শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফায় স্বেচ্ছা অবসরসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বেচ্ছা অবসরসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ১৪ অক্টোবর বিশেষ বার্ষিক সভার (ইজিএম) তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত দুই বছরে জিএসকের ফার্মা ইউনিটের প্রায় ৩০ কোটি টাকা লোকসান হওয়ায় কোম্পানিটি বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। গত জুলাই মাসে জিএসকে বাংলাদেশে ওষুধ ব্যবসা বন্ধের ঘোষণার পরপরই জিএসকের চট্টগ্রাম কারখানার শ্রমিকরা প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্মরত প্রায় ৮০০ শ্রমিক-কর্মচারীর ন্যায্য পাওনা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানি এক মাসের সময় দিয়ে একটি স্বেচ্ছা অবসরের স্কিম ঘোষণা করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদের আগে আরও এক দফা সময়সীমা বাড়ানো হয়।
নতুন এ অফারে প্রত্যেক কর্মচারী সর্বনিম্ন ১২ মাসের গ্রস বেতন, চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী প্রতিবছরের জন্য ১৮ মাসের গ্রস বেতন এবং এককালীন সাড়ে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এর বাইরেও প্রতিবছর চাকরির জন্য এক থেকে দেড় মাসের মূল বেতন (বেসিক) ও চার মাসের বেতন নোটিশ পিরিয়ডের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। পাশাপাশি শ্রম আইন ও কোম্পানির বিধি অনুযায়ী পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো প্রযোজ্য সব পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।