দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আস্থার সংকট রয়েছে বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‘রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সুপারিশ অর্ন্তভুক্তি’ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ধানমণ্ডির নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আস্থার সংকট রয়েছে। টিআইবি মনে করে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং হেরে যাওয়া দল ফল প্রত্যাখ্যান করার কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা থাকলে দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করে টিআইবি।’
‘কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থাহীনতা রয়েছে। জনগণের মধ্যেও আস্থাহীনতা দেখা যাচ্ছে। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না বলে অনেকে মনে করেন’, যোগ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে ইশতেহার প্রকাশে যতটা আগ্রহী থাকে, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ইশতেহার বাস্ততবায়নে ততটা আগ্রহী থাকে না।’
এসময় আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অর্ন্তভুক্তির জন্য টিআইবি ৬টি ক্যাটাগরিতে ৩৫টি সুপারিশ করে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংসদে সরকারি দলের একচ্ছত্র ভূমিকা নিরুৎসাহিত্য করতে দলীয় প্রধান, সরকার প্রধান ও সংসদ নেতা একজন হওয়া উচিত নয়। তিনজন এক ব্যক্তি হলে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকে না। বিরোধী দলকে সংসদীয় কার্যক্রমে আরও বেশি সুযোগ দেওয়া, ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নিয়োগ দেওয়া, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলসহ ইত্যাদি।
টিআইবি প্রধান বলেন, ‘পূর্বে বিভিন্ন সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সুশাসন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত কোনো কোনো অঙ্গীকার পূরণ করলেও কয়েকটি অঙ্গীকার পূরণ করেনি। না করার মধ্যে রয়েছে কার্যকর সংসদ, ন্যায়পাল নিয়োগ, কালো আইন বাতিল, জনপ্রতিধিনিদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ এবং রেডিও-টেলিভিশনের স্বায়ত্বশাসন ইত্যাদি।’