ফারমার্স ব্যাংক থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীমসহ ছয় কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের পাঠানো নোটিশে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ওই কর্মকর্তাদের দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অন্য যাদের হাজির থাকতে বলা হয়েছে তারা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ অফিসার উম্মে সালমা সুলতানা, অ্যাসিস্ট্যন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ, সাবেক ম্যানেজার (অপারেশন) ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুতফুল হক, সাবেক হেড অব বিজনেস ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজী সালাউদ্দিন ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়।
অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়, ফারমার্স ব্যাংক লি. এর কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে ওই টাকা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তির নামে হস্তান্তর দেখিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং করা হয়েছে।
২০১৬ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা শাহজাহান ও নিরঞ্জন নামে দুই ব্যক্তি ঋণ নেন। এরপর একই বছরের ১৬ নভেম্বর সেই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।
এ বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বলেন, ‘৪ কোটি টাকার যে অনুসন্ধান, তা কবে শেষ হবে আমি বলতে পারব না। টাকাটা কোথায় গেছে তা আমাদের বের করতে হবে। ওই টাকা কোথায় গেল, কীভাবে গেল; তা তো জানতে হবে।’
দুদকে চলমান ‘ফারমার্স ব্যাংকের চার কোটি টাকা কেলেঙ্কারি’ প্রসঙ্গে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ঋণ প্রদান ও ঋণের টাকা অন্য কোথাও যাওয়া, সেটার অনুসন্ধান চলছে। সেই চার কোটি টাকার ব্যাপারে আপনারা এক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ( যে সেই টাকা সিনহার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে)। আমরা কিন্তু সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো কিছু বলিনি। তদন্ত চলছে। এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার সময় আসেনি।’
এক ব্যক্তি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুদকে লিখিত অভিযোগ দিলে দুদক তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।