শেষ পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ জন্য চলতি অর্থবছরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কারণে গ্যাস খাতে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কারওয়ানবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গ্যাস আমদানিতে ভর্তুকি প্রয়োজন। তবে এলএনজির সরবরাহ বাড়লে আর কোনো সমস্যা হবে না। জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে ১৪২১ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, ‘কমিশন নিরাপত্তা জামানত, বিল পরিশোধ, বিল পৌঁছানো ইত্যাদি নিয়ম পরিবর্তন করেছে। বিতরণ সিস্টেম লস নিরূপণের জন্য প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় আরও কিছু সংস্কার বাস্তবায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, শিল্প খাতে আগে তিন মাসের জামানত দিতে হতো। এখন সেটা দুই মাস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক মাসের ব্যাংক গ্যারান্টি আর একমাসের নগদ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসি সদস্য আ. আজিজ খান, রহমান মোর্শেদ, মাহমুদুল হক ভূঁইয়া, মিজানুর রহমান খান।
এর আগে, গত সপ্তাহে বিইআরসি গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চায়। গত ৭ অক্টোবর কমিশনের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। সিদ্ধান্ত ছিল বিকেলে ফিরে এসে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর বিষয়ে নির্দেশনা দেন। ফলে ওইদিন সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে কমিশন।
আবাসিক ও বাণিজ্যিক ছাড়া সব ধরনের গ্যাসের দামই বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বিতরণ কোম্পানিগুলো। এনএলজি’র খরচ মেটাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। জুনে তাদের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হয়। শুনানির পর ৯০ দিনের মধ্যে আদেশ দেওয়ার কথা কমিশনের। এই সপ্তাহেই এই ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার কথা।
কমিশন সূত্র বলছে, যে পরিমাণ এলএনজি এ বছর যুক্ত হচ্ছে, তাতে সব মিলিয়ে সারাবছরে দুই হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার কথা। যেহেতু বছরের মাঝখান থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে, পুরো বছরের অর্ধেক সময় ধরে হিসাব করলে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার কোটি টাকা।
এরই মধ্যে সরকার এ খাতের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। ফলে এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলাকে খুব বেশি ব্যয় করতে হবে না। এ কারণেই গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে আপাতত ভর্তুকি দিয়ে ব্যয় মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।