অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশে এখনও তিন কোটি মানুষ দরিদ্র যাদের মধ্যে এক কোটি অতি দরিদ্র।
রোববার (২১ অক্টোবর) পল্লী উন্নয়ন ও কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন-এর (পিকেএসএফ) সহায়তায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী সম্মেলন-২০১৮’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দেশে যে হারে দরিদ্র কমার কথা ছিল, সে হারে কমছে না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর ২ শতাংশ হারে কমার কথা। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। দারিদ্র্যের হার কমাতে বেশ কিছু কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।’
দারিদ্র্য বিমোচনে নেয়া কর্মসূচিগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে মুহিত বলেন, যেভাবে দারিদ্র্য কমছে, এতে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে আরও ৭-৮ বছর সময় লেগে যাবে। চলমান এ সব কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে রিভিউ করতে হবে। যদি এ কর্মসূচিগুলো দরিদ্র বিমোচনে যথেষ্ট না হয় তাহলে প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি নিতে হবে।
দেশের অর্থনীতির এরকম অবস্থার উন্নয়নে কিশোর-কিশোরীদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সোনার বাংলা গড়তে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। আজকের কিশোর-কিশোরীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তারাই দেশের নেতৃত্বে আসবে। এজন্য নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।
‘মেধা ও মননে সুন্দর আগামী’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া কিশোর কিশোরী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পিকেএসএফ-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সাবেক ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের প্রমুখ।
পিকেএসএফ দারিদ্র্যের বহুমাত্রিকতাকে বিবেচনায় রেখে কেবল ‘আয় বৃদ্ধি’সঙ্কীর্ণ উন্নয়ন দর্শন থেকে বেরিয়ে এসে জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে চাহিদা পূরণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সে লক্ষ্যে মূল্যবোধের সৃজন ও লালন করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল পর্যায়ে স্কুল্ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচি গ্রহণে করে। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাই করা ৭১০ জন সম্ভবনাময় কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে কিশোর-কিশোরী সম্মেলন-২০১৮ সূচনা করা হয়। সম্মেলনে কিশোর কিশোরীরা দিনব্যাপী কর্মশালা মাধ্যমে নেতৃত্ব ও নৈতিকতা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে।