রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রংপুরে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেফতার করে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিবি’র অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।
জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর উত্তরার জসিমউদ্দিন রোডে আ স ম আবদুর রবের বাসায় যান ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী ও জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রব এবং জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন সারাবাংলাকে জানান, রাজধানীর হোটেল র্যাডিসন থেকে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন আ স ম আবদুর রবের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো বৈঠক ছিল না। পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরেই তারা ওই বাসায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই গ্রেফতার হন ব্যারিস্টার মঈনুল।
এর আগে, রাত ৯টার দিক থেকেই আ স ম রবের বাসা ঘিরে রাখে ডিবি পুলিশ। উত্তরা (পশ্চিম) থানা পুলিশের একটি দলও তাদের সঙ্গে ছিল। ব্যারিস্টার মঈনুল ওই বাসায় উপস্থিত আছেন— এমন খবর নিশ্চিত হয়েই বাসাটি ঘিরে রাখায় হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম সারাবাংলাকে বলেন, রংপুরে দায়ের করা একটি মানহানির মামলায় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সেই মামলাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টকশো ‘একাত্তর জার্নালে’ সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। তার এই মন্তব্যের প্রতিবাদে নারী সাংবাদিকরা বিবৃতি দেন। তারা প্রকাশ্যে ব্যারিস্টার মঈনুলকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা তার বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন, বিবৃতি দেন বিশিষ্ট নাগরিকরাও।
এ ঘটনায় ব্যারিস্টার মঈনুল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। তবে তিনি দাবি অনুযায়ী প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় ২১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন মাসুদা ভাট্টি। পরে জামালপুর ও কুড়িগ্রামেও মামলা হয় তার নামে। এর মধ্যে ঢাকা ও জামালপুরের মামলায় রোববার পাঁচ মাসের এবং সোমবার কুড়িগ্রামের মামলায় ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান ব্যারিস্টার মঈনুল।
এর মধ্যে আজ সোমবার বিকেলে রংপুরের মানবাধিকারকর্মী মিলি মায়া সেখানকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যারিস্টার মঈনুলের বিরুদ্ধে মানহানির আরেকটি মামলা দায়ের করে। পরে সন্ধ্যার দিকে বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।