শরীয়তপুর জেলার ভেদেরগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান উত্তর তারাবুনিয়ার কালো মানিক আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি আর নেই। দুনিয়ার মায়া ত্যাগ শুক্রবার বিকাল ৩ টা ৪৫ মিনিটে রাজধানির পিজি হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছেলে মেয়ে ও অসংখ্য শুভাকাঙ্খ রেখে গেছেন।
এর আগে ব্রেন স্ট্রক করলে তাকে গত ৩ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভূর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিতসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে একটু সুস্থ্য হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আলহাজ্জ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝির মৃত্যুর পর বাদ আসর পিজি হাসপাতালের মসজিদে প্রথম জানাযার নামাজ পড়া হয়। পরে বাদ এশা জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম মসজিদে দ্বিতীয় জানার নামাজ পড়া হয়। আগামীকাল (শনিবার) সকাল নয়টায় উপ-জেলা পরিসদে তৃতীয় জানাজা এবং বাদ জোহর চতুর্থ জানাজা হবে চেয়ারম্যান বাজার জামে মসজিদে আদায় করার পর মসজিদের সামনে সমাহিত করা হবে। তার শেষ ইচ্ছা হিসেবে তাদে এখানে দাফন করা হবে।
আলহাজ্জ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি ১৯৭৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এটি ছিলো ইউনিয়ন কাউন্সিল। স্বাধীনতার পরে পরিবর্তন হয়ে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত হয়। এখানে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়, যিনি ইউনিয়ন পঞ্চায়েতের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৭৬ সালে স্থানীয় সরকার আইনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত পরিবর্তন করে ইউনিয়ন পরিষদ করা হয় এবং এর কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। যেখানে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান,নয়জন নির্বাচিত সদস্য,দুই জন মহিলা সদস্য (মনোনিত) এবং দুইজন কৃষকদের প্রতিনিধি সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়।
[caption id="attachment_47136" align="alignright" width="600"]
কালো দাগের মাঝেখানে আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি[/caption]
এই পর্বেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন মাঝি। এর পর ১৯৮৬ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আবারও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এর বাহিরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানেরে দায়িত্ব পালন করেন। তার চেয়ারম্যানের প্রথম দিকে তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে ছিলো বৃহত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ। যেটি পরে ভেঙ্গে উত্তর তারাবুনিয়া, দক্ষিণ তারাবুনিয়া ও চর সেন্সার্স ইউনিয়ন পরিষদে রুপান্তরিত হয়েছে।
তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চেষ্ঠা করেছেন জনগনের সেবা করার। গড়ে তুলেছেন অর্ধশতাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল। জনগন কোনো সমস্যায় পরলেই দৌড়ে গেছেন তাদের কাছে। নদী মাতৃক এলাকা হওয়ায় এখানকার বেশির ভাগ মানুষ নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ কওে আসছেন স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত । নদীতে ডাকাতদের নিয়ন্ত্রণ করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন তিনি। তার এই কৃতকর্মের কারণে তাকে এলাকার লোকজন কালো মানিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।