বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন মিলগুলোর লোকসানের কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি কাঠামোতে বৈষম্য, অপ্রচলিত মেশিনারিজ দিয়ে পণ্য উৎপাদন, তহবিলের অভাবে সময়মতো পাট ক্রয় করতে না পারার কারণে মিলগুলোপ্রতিবছর লোকসান দিচ্ছে। লোকসান কাটিয়ে মিলগুলোকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সাবিনা আক্তার তুহিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পাটের ‘সোনালি ব্যাগ‘ প্রকল্পবিষয়ক চুক্তিসহ সব লিগ্যাল ডকুমেন্ট চূড়ান্তকরণ এবং ৯ মাসের মধ্যে ‘সোনালি ব্যাগ’ মূল প্রকল্পের কাজ শুরুর সুপারিশ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ বস্ত্র শিল্প কর্পোরেশনে (বিটিএমসি) অস্থায়ী দৈনিক ভিত্তিতে কর্মচারী নিয়োগে সাময়িক অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, তাঁত শিল্পের পূর্ণ বিকাশে চূড়ান্ত খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্যকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে।
এছাড়া রাজশাহী সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবনাকে সমন্বয় করে একটি যুগোপযোগী বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। বৈঠকে প্রকল্প প্রস্তাবটি আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়েপাঠানোর সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে আরো জানানো হয়, বিটিএমসি-এর অধীন মিলের সংখ্যা ২৫টি। যার মধ্যে ভাড়ায় চালিত ৮টি এবং বন্ধ ১৭টি। বিটিএমসির ১৮টি মিলের জনবল দিয়ে ২৫টি মিলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ১৯৯৩ সাল থেকে অদ্যাবধি ৩৬১ জন দৈনিকভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত আছে।