জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার মামলায় বাস মালিক শাহাদাৎ হোসেন আকন্দসহ এর চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। চার্জশিটও দেয়া হয়েছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে। আইন মন্ত্রণালয়ের তাগাদা থাকায় ওই বাস মালিকের বিচারও শুরু হয়েছিল বিনাবিলম্বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের অনাগ্রহে অনিশ্চয়তায় পড়েছে আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ। বিচারকাজ থামিয়ে দিতে বাস মালিকের পক্ষে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ আনা হলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে আপিল করেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
শিক্ষার্থী দিয়া খানম ও আবদুল করিম নিহতের ঘটনায় বিচারকাজ শুরুর পর ঘাতক বাসের মালিক শাহাদাৎ হোসেন আকন্দের পক্ষে তার আইনজীবী এতে স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৭ নভেম্বর বিচারকাজ স্থগিত করার আদেশ দেন। পাশাপাশি ওই বাস মালিককে তিন মাসের জন্য জামিনও দেয়া হয়। এর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা।
স্থগিতাদেশটি বিচারিক আদালতে উপস্থাপন করা হয় ১৪ নভেম্বর। সেদিনও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের দৃষ্টিগোচর করা হলে তাতেও কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, স্থগিতাদেশ হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের বিষয়টি অবহিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তাগাদা থাকার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের।