অবহেলিত জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিবন্ধীদের মানুষ হিসেবে গণ্য করা হতো না। আমরা যেন তাদের অবহেলা না করি, মানুষ হিসেবে তাদের যে অধিকার তা যেন দিতে পারি। আমাদের প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়রা সব সময় বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণ অর্জন করে।
রোববার (৩ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রতিবন্ধীদের ভেতরের শক্তি ও মেধাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বলেন প্রতিবন্ধীদের উপযোগী করে স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের ভেতর যে শক্তি আছে, যে মেধা আছে তা যেন ব্যবহার করতে পারি। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।
মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার যেন আমরা দিতে পারি। কিছুক্ষণ আগেই দেখেছেন আমাদের এক বোন যার দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও পা দিয়ে চমৎকার একটা নৌকা তৈরি করে আমাকে উপহার দিয়েছে। তার দুইটি হাত না থাকার পরেও মেধা ও শক্তি দিয়ে দুই পা ব্যবহার করে এত সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরি করছে।
কাজেই আমি মনে করি তাকে অবহেলার করার সুযোগ নাই। এখানে যে প্রতিপাদ্য বিষয় সাম্য ও অভিন্ন যাত্রায় প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়ন। কাজেই এই অভিন্ন যাত্রায় আমাদের প্রতিবন্ধীদের সামিল করতে পারি সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। সেই জন্যে আমরা কোটা পদ্ধতি বাতিল করে দিয়েছি। এটা ঠিক। তবে একটা নীতিমালা তৈরি করছি যাতে প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অনগ্রসর জাতি তাদের সবার অধিকার থাকবে। তারা যেন যথাযথভাবে চাকরি পায়। চাকরিতে তাদের যেন অধিকার থাকে সেই ব্যবস্থা নীতিমালায় অবশ্যই থাকবে।
প্রতিবন্ধীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ১৬ লাখের বেশি প্রতিবন্ধীকে বর্তমানে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই মোবাইলফোনের মাধ্যমে তাদের এই ভাতা পৌঁছে দেওয়ার সহজ ব্যবস্থা করা হবে। মোবাইলভ্যানের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে প্রতিবন্ধী বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।