রাজধানীতে চালের দাম কমছে
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০১৮-১২-১৮ ১১:৫৫:৩৪

চলতি বছরের শেষ ভাগে এসে দেশের বাজারে চালের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যটির দামে। রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম সর্বোচ্চ ১১ টাকা কমে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে মোটা চালের দাম। একদিকে বাড়তি উৎপাদন, অন্যদিকে নির্বাচনের আগে সরকারের পক্ষ থেকে মজুদ বৃদ্ধির জের ধরে বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
গতকাল পুরান ঢাকার বাদামতলী ও বাবুবাজারের পাইকারি মোকামগুলো ঘুরে তুলনামূলক চিকন চালের প্রতি ৫০ কেজির একেকটি বস্তা ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি চালের দাম কমে ৪৫-৪৬ টাকা। কয়েক সপ্তাহ আগেও পণ্যটি বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৭৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ে ৫৫-৫৬ টাকা। সে হিসাবে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীতে তুলনামূলক চিকন চালের দাম বস্তায় ৫০০ টাকা ও কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে মোটা চালের দামেও। কয়েক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি মোটা চাল ৩৯-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে খাদ্যপণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ২৯-৩০ টাকায় নেমে এসেছে। এদিন প্রতি কেজি স্বর্ণা জাতের চাল ৩১-৩২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। কয়েক সপ্তাহ আগেও খাদ্যপণ্যটির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪২-৪৩ টাকা। সে হিসাবে খাদ্যপণ্যটির দাম কেজিতে ১১ টাকা কমেছে। প্রতি কেজি লতা চালের (বিআর-২৮) দাম ৪২-৪৫ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩২-৩৫ টাকায়।
স্থানীয় মোকাম মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চাল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্যপণ্যটির আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়া হয়েছিল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমদানিকারকরা বছরজুড়ে স্বল্প দামে বাড়তি চাল আমদানি করেছেন। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ও বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এর জের ধরে সর্বশেষ জাতীয় বাজেটে চাল আমদানিতে শুল্কহার বাড়িয়ে আগের অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ কারণে আমদানি কমে এলেও দেশের বাজারে চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। একই সঙ্গে বছরের শেষভাগে জাতীয় নির্বাচন থাকায় আগে থেকেই সরকারি গুদামগুলোয় ধান-চালের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। নির্বাচনের আগে সরবরাহ চাপ না থাকায় খাদ্যপণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি রফিকুল ইসলাম বলেন, বছরের শেষ সময়ে এসে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়েছে। তবে ক্রমাগত দরপতনের কারণে কৃষক ও চাল ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
প্রতিবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিল মালিকরা চালের বড় ধরনের মজুদ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে তারা এসব চাল বাড়তি দামে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হন। তবে এবার নির্বাচনের আগে মিল মালিকদের মধ্যে ভিন্ন প্রবণতার কথা জানান চাল ব্যবসায়ীরা। বাড়তি আমদানি ও নতুন মৌসুমের চাল ওঠায় আগে থেকেই মিলগুলোয় চালের মজুদ গড়ে উঠেছে। এ কারণে মিল মালিক ও আমদানিকারকরা বাড়তি মজুদের ঝামেলা এড়াতে বাজারে বেশি বেশি চাল ছাড়ছেন।







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













