গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৪০৫টি মামলা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। সংস্থাটির তথ্যমতে, মোট মামলার ৭৪৫টি হয়েছে শিল্প-কারখানার বিরুদ্ধে। বাকি মামলাগুলো হয়েছে দোকান ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
শিল্প-কারখানা, প্রতিষ্ঠান ও দোকানগুলোয় পরিদর্শনের মাধ্যমে শ্রম আইন অনুসরণ পরিস্থিতি তদারকির নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পরিদর্শন করে ডিআইএফই। পরিদর্শনে আইনের বিধি অনুযায়ী চাকরি ও নিয়োগের শর্তাবলি, শিশু-কিশোর শ্রমিক নিয়োগ, প্রসূতিকল্যাণ সুবিধা, স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য বিধি, কল্যাণমূলক ব্যবস্থা, কর্মঘণ্টা ও ছুটি, মজুরি নির্ধারণ ও পরিশোধ, ট্রেড ইউনিয়ন-শিল্প সম্পর্ক ও বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় শ্রমিকের অংশগ্রহণ, ভবিষ্য তহবিলসহ শ্রম অধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর পরিপালন নজরদারি করা হয়। পরিপালন ব্যর্থতার একপর্যায়ে মামলা করা হয়।
নভেম্বর পর্যন্ত ২০১৮ সালের ১১ মাসে মোট ৩৯ হাজার ১৪১টি গার্মেন্ট শিল্প, অন্যান্য কারখানা, দোকান ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে ডিআইএফই। এ পরিদর্শন কর্মসূচির মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪০৫টি। আলোচ্য সময়ে গার্মেন্ট শিল্পসংশ্লিষ্ট ৪ হাজার ৮৮৫টি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করা হয়। এসব পরিদর্শনে আইন লঙ্ঘন সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৫৪টি। অন্যান্য কারখানা পরিদর্শন হয়েছে ১৫ হাজার ২৮৪টি, মামলা হয়েছে ৬৯১টি। দোকান পরিদর্শন হয়েছে ১২ হাজার ৫৯৯টি, মামলা হয়েছে ৩৮৪টি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন হয়েছে ৬ হাজার ৩৭৩টি, মামলা হয়েছে ২৫৭টি।
জানতে চাইলে ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই আমাদের পরিদর্শকরা কল-কারখানা, প্রতিষ্ঠান ও দোকান পরিদর্শন করেন এবং সেখানে শ্রম আইনের লঙ্ঘন থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরও মামলা হয়েছে। মামলা করার আগে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংশোধনের সুযোগও প্রদান করি।
ডিআইএফই পরিদর্শন কৌশলপত্র বলছে, বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী শ্রম পরিদর্শকরা ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের কর্মসংস্থল প্রবেশ ও পরিদর্শন, রেকর্ড, রেজিস্টার ও দলিলাদি পরীক্ষা করা এবং মালিক ও শ্রমিকের সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। মহাপরিদর্শক অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তা শ্রম আদালতে অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। নতুন স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন প্রদান, কাজ শুরুর নোটিস গ্রহণ, নতুন লাইসেন্স ইস্যু করা বা স্থাপনা/যন্ত্রপাতি সম্প্রসারণ, লাইসেন্স নবায়ন ও কর্মস্থলের নিবন্ধনের মতো বিষয়েও কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর ক্ষমতাপ্রাপ্ত। শ্রম পরিদর্শকদের ক্ষমতার মধ্যে আরো রয়েছে কর্মপরিবেশের আইনগত উন্নয়নের জন্য নোটিস প্রদান ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার নোটিস জারি করা।