
ইংলিশ শীর্ষ লীগের ইতিহাসে কমপক্ষে ৭ পয়েন্টের লিড নিয়ে নতুন বছর শুরু করা কোনো দলই শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়নি। লিভারপুলের সামনে এবার সেই সুযোগ। তবে ৭ পয়েন্টের লিড নিয়ে ২০১৯ সালের শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে লিভারপুল। বছরের প্রথম ম্যাচ খেলতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে। শিরোপা লড়াইয়ে সিটিজেনদের সামনেও পয়েন্ট ব্যবধান কমানোর চ্যালেঞ্জ। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আজ রাত ২টায় ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলকে আতিথ্য দেবে পেপ গার্দিওলার ম্যানসিটি। প্রিমিয়ার লীগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ডাগআউটে দু’দলের কোচের দ্বৈরথও নজর কাড়বে। ম্যানসিটির কোচ হিসেবে গার্দিওলাকে ডাকছে ১০০তম জয়ের মাইলফলক।
কোচিং ক্যারিয়ারে গার্দিওলা সবচেয়ে বেশি ৭ ম্যাচ হারেন ক্লপের বিপক্ষেই। ১৫ বারের দেখায় পাঁচ ম্যাচে জয় দেখেন এই স্প্যানিয়ার্ড কোচ (পেনাল্টি শুটআউট ছাড়া)। ধ্রুপদী লড়াই সামনে রেখে লিভারপুলকে সমীহ করেন গার্দিওলা। তিনি বলেন, ‘দারুণ ফর্মে থাকা লিভারপুল হয়তো এ মুহূর্তে ইউরোপ কিংবা বিশ্বের সেরা দল। আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে। পয়েন্ট হারাতে থাকলে শিরোপা লড়াই শেষ হয়ে যাবে। লিভারপুল অবশ্যই পয়েন্ট খোয়াতে পারে, কিন্তু সেটি হয়তো খুব বেশি হবে না।’ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লিভারপুলের বিপক্ষে সবশেষ ১১ বারের সাক্ষাতে মাত্র একবার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানসিটি। ওই একটি জয় আসে গত মৌসুমে। প্রিমিয়ার লীগে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সবশেষ সফরে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা নেয় লিভারপুল। আর প্রতিযোগিতায় ম্যানসিটির মাঠে সবশেষ ৯ ম্যাচে একবারই জয় (৪-১) দেখে অল রেডরা। সেটি ছিল ২০১৫ সালের নভেম্বরে লিভারপুলের কোচ হিসেবে ক্লপের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ। এবারের লড়াই সামনে রেখে লিভারপুলের জার্মান কোচ ক্লপ বলেন, ‘গত বছর ম্যানসিটির মাঠে যখন আসি তখন তারা ছিল শীর্ষে আর আমাদের অবস্থান ছিল চতুর্থ। এটিকে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি না।
মৌসুম শুরুর আগে টানা তৃতীয়বার ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে উত্তীর্ণ হওয়াটাই মূল লক্ষ্য ছিল। এখন আমাদের অবস্থান আরো দুর্দান্ত। তবে দু’দলের পয়েন্ট ব্যবধানে সবকিছুর সুরাহা হয়ে গেছে বলে আমি মনে করি না। নিজেদের শতভাগ উজাড় করে সেরা ফুটবলই খেলতে হবে।’ অপরাজিত দৌড় ধরে রাখতে লিভারপুলের সামনে বড় বাধা সার্জিও আগুয়েরো। ঘরের মাঠে লিভারপুলের বিপক্ষে ৬টি লীগ ম্যাচেই গোলের নৈপুণ্য দেখান আর্জেন্টাইন তারকা। প্রিমিয়ার লীগ ইতিহাসে আর কোনো খেলোয়াড়েরই নিজ মাঠে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রত্যেক ম্যাচে গোল করার কীর্তি নেই। আর ১ গোল পেলেই ঘরোয়া লীগ ক্যারিয়ারে ২৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন আগুয়েরো। প্রিমিয়ার লীগে টানা ৯ ম্যাচ জিতে ম্যানসিটির মাঠে নামছে লিভারপুল। স্বাগতিকদের রক্ষণভাগ ব্যতিব্যস্ত করে রাখতে পারেন দুরন্ত ফর্মে থাকা মোহাম্মদ সালাহ। প্রিমিয়ার লীগে সবশেষ তিন ম্যাচেই নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে গোল করান এই মিশরি ফরোয়ার্ড। লিভারপুল ও ম্যানসিটি দু’দলই জয় দিয়ে ২০১৮ সালকে বিদায় জানায়।
সবশেষ ম্যাচে অ্যানফিল্ডে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে অল রেডরা। আর সাউদাম্পটনের মাঠে ৩-১ ব্যবধানে ফলাফলে দুই ম্যাচ পর পয়েন্টের দেখা পায় ম্যানসিটি। আগের চার ম্যাচের তিনটিতে হেরে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান হারিয়ে পিছিয়ে পড়ে গার্দিওলার শিষ্যরা।
প্রিমিয়ার লীগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর নিজ মাঠে টানা দুই ম্যাচে হারের চোখ রাঙানি দিচ্ছে ম্যানসিটিকে। কোচ হিসেবে কখনোই এমন অভিজ্ঞতা হয়নি গার্দিওলার। নিজ মাঠে সবশেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হারের হতাশায় ডোবে তারা।
প্রিমিয়ার লীগ যুগে ৪৩ বারের দেখায় ১৯ ম্যাচে লিভারপুল ও ৮ ম্যাচে জয় পায় ম্যানসিটি। ড্র হয় ১৬ ম্যাচ। গত মঙ্গলবার টটেনহ্যাম হটসপার বছরের প্রথম ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। ২১ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৪৮ পয়েন্ট। ২০ ম্যাচে ১৭ জয় ও ৩ ড্রয়ে শীর্ষে লিভারপুল (৫৪)। ইংলিশ শীর্ষ লীগে মৌসুমের প্রথম ২০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নবম নজির এটি। দু’বার এই উচ্চতায় উঠলো লিভারপুল। এই পর্যায়ে থেকে একমাত্র শেফিল্ড ইউনাইটেড (১৮৯৯-১৯০০) চ্যাম্পিয়ন হয়ে মৌসুম শেষ করতে ব্যর্থ হয়। লিভারপুলের চেয়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে ম্যানসিটি (২০ ম্যাচে ৪৭)।