গাজিপুরের কালিয়াকৈরসহ অন্যান্য হাইটেক পার্ক উন্নয়ন প্রকল্পে আন্তঃব্যয় সমন্বয় করা হচ্ছে। আর তাই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে । গত ১৪ জানুয়ারি প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা।
এতে বেশকিছু বিষয়ে সুপারিশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী হাইটেক পার্ক এবং খুলনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের যেসব কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, প্রাক্কলিত ব্যয়সহ তার তালিকা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) সংযোজন করতে বলা হয়েছে। ২২ জানুয়ারি জারি করা পিইসি সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রকল্পটি আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান । এর মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ সাশ্রয় এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তঃঅঙ্গ ব্যয় সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। পিইসি সভায় এ ব্যয় সমন্বয়ের কারণগুলো যথাযথভাবে ডিপিপিতে ১১নং অনুচ্ছেদে প্রতিফল করতে বলা হয়েছে।
প্রকল্পটির পরিচালক এএনএম সফিকুল ইসলাম জানান, মূলত চট্টগ্রামে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি যে স্থানে তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল সেটি পরবর্তীতে জমি না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি। এজন্য অন্য জায়গায় করা হচ্ছে। ফলে এখানে কিছু টাকা উদ্বৃত্ত হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে অন্য স্থানে হাইটেক পার্ক উন্নয়নের কাজে লাগানো হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তঃঅঙ্গ ব্যয় সমন্বয় করা হলেও নির্দিষ্ট প্রকল্প মেয়াদেই বাস্তবায়ন কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
সূত্র জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ মূল প্রকল্পটি সরকার ও বিশ্বব্যাংক ও ডিএফআইডির অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়। সে সময় ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
পরবর্তীতে উন্নয়নসহযোগী আইটি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা সহায়তা দেয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ অপরিবর্তিত রেখে ব্যয় বৃদ্ধি করে মোট ১৩৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা করে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করা হয়। ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর এটি অনুমোদন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গের ব্যয় সমন্বয় করে প্রকল্পের আইটি বা আইটএস ফার্মের সংখ্যা বৃদ্ধি, সিলেটে ভূমি উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ সংযোগ, কালিয়াকৈরে ব্রিজ নির্মাণ, ২ জন পরামর্শক নিয়োগ, দুটি বাস সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ যুক্ত করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩৯৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
অর্থাৎ সাড়ে ৩ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে তৃতীয় সংশোধন করা হয়। ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ একনেকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের সেমিনার, কনফারেন্স খাতে সাশ্রয়কৃত ৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা শর্ট ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ, স্ট্যাডিট্যুর খাতে সমন্বয় এবং পূর্ত খাতের অব্যায়িত অর্থ দিয়ে চট্টগ্রাম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন, রাজশাহী ও খুলনা হাইটেক পার্কের ট্রেনিং সেন্টারের ইন্টেরিয়ার ফিটিংস এবং ডেকোরেশন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও হাঁটা পথ তৈরি এবং আইটি সেন্টার পর্যন্ত ইলেকট্রিক কানেকটিভিটি জন্য হাই ট্রান্সমিশন লাইন কাজের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তঃঅঙ্গ ব্যয় সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।