বাংলাদশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হবে আগামী র্মাচ মাস থেকে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার ড. আদারস শোয়াইকা।
সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশিরা যাতে সহজে ভারতের ভিসা পায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে একসাথে কাজ করতে আমরা একমত। এতে করে উভয় দেশের বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে তিনটিতে ভারত বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মংলায় ১১০ একর জমির উপর স্পেশাল ইকোনমিক জোনের কাজ অল্প দিনের মধ্যেই শুরু করবে। মিরেরশরাই-এ একহাজার একর জমির উপর এবং ভেড়ামারায় অপর একটি ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ভারত।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরের চিলাহাটি সীমান্তে একটি স্থলবন্দর নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ প্রস্তাব দিয়েছে। চলমান বর্ডারহাটের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আমরা উভয় দেশ একমত হয়েছি। চলমান বর্ডার হাটের পাশাপাশি আরো ৬টি বর্ডারহাট চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী মার্চে উভয় দেশেরে মধ্যে পর্যটকবাহী নৌযান চালু হবে। এতে উভয় দেশের পর্যটকরা নৌপথে ভ্রমন শুরু করবেন।
টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশেীদের জন্য ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে জটিলতা নিরশনের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশী পণ্য ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ব্যবধান দূর করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উভয় দেশের বর্তমান বাণিজ্য ৯৪৯২.৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ভারতে বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানির পরিমান চিল ৬৭২.৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়ে ৮৭৩.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ভারতের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে বলেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটকবাহী নৌযান চালু হবে। প্রথমে ভারতের পর্যটব দল নৌপথে বাংলাদেশের সুন্দরবন ভ্রমণ করবে। ভারত বাংলাদেশীদের ভিসা সহজ করতে রাজধানী ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে ১৫টি ভিসা ইস্যু সেন্টা চালু করেছে। চলমান বর্ডার হাটের সমস্যাগুলো চিহ্যিত করে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব(এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সানবিডি/এনজে