ভূগর্ভস্থ পানির আধার ঠিক রাখতেই দেশের উত্তরাঞ্চলে আর কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে না সরকার। এই ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান।
তারা জানান, দেশের কৃষিপণ্য উৎপাদনের অন্যতম ভাণ্ডার হচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চল । আর এই পণ্য উৎপাদনের জন্য ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকেই প্রয়োজনীয় পানির সংস্থান হয়ে থাকে। এই কারণে খাদ্যশস্যের জলাধার যেন নষ্ট হয়, সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিমুখে নির্মিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভুগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র না করতে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূলত কৃষি উৎপাদনে যেন ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে কোনো সমস্যা না হয়, এজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির জলাধার ঠিক রাখতে এরই মধ্যে রংপুরের কুড়িগ্রামে কয়লাভিত্তিক একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিমার্নের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। আশুগঞ্জ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন এই কেন্দ্র দেশের অন্য জায়গায় নির্মাণের চিন্তাভাবনা চলছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি ও যৌথ বিনিয়োগে মোট ১৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১৮ হাজার ৩৯২ মেগাওয়াট। এছাড়া সরকারি পর্যায়ে নির্মিতব্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সব থেকে এগিয়ে রয়েছে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের কাজ। এরইমধ্যে কেন্দ্রটির ৩০ ভাগের ওপর কাজ শেষ হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ও চীনের সিএমসি এই কেন্দ্রের সমান অংশীদার। দুই কোম্পানি মিলে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল) গঠন করে। প্রকল্পটির মালিক বাংলাদেশ ও চীন সরকার। চীনের এক্সিম ব্যাংক প্রকল্পটিতে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০১৯ সালে উৎপাদনে আসবে।