প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে জাহাজ ভাড়ায় যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তার বড় অংশই যাচ্ছে বিদেশি জাহাজ কোম্পানিগুলোর পকেটে। তাই দেশি জাহাজে অন্তত ৫০ শতাংশ পণ্য আমদানি বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
অর্থাৎ দেশীয় জাহাজে সমুদ্রপথে ৫০ শতাংশ পণ্য পরিবহন করতে হবে। এমন বিধান রেখে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ (সংরক্ষণ) আইন ২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় আজকের (সোমবার) মন্ত্রিসভার আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে ইপিজেড শ্রম আইনের খসড়া ও মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০১৮) উপস্থাপন করা হতে পারে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের জাহাজ শিল্পকে প্রণোদনা দিতেই এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ।১৯৮২ সালে প্রণীত অধ্যাদেশে ৪০ শতাংশ পণ্য দেশীয় জাহাজে পরিবহনের বিধান থাকলেও তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। এতে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন বাবদ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে বিদেশি জাহাজ মালিকদের পকেটে।
সূত্র জানায়, দেশের আমদানি-রফতানির ৯০ শতাংশই হয় সমুদ্রপথে। তবে শর্ত মেনে শিপিং এজেন্টরা দেশীয় জাহাজ ব্যবহার না করায় জাহাজ ভাড়া বাবদ প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশি জাহাজ কোম্পানিগুলোর পকেটে চলে যাচ্ছে।
১৯৯৪ সালে প্রথম জাহাজ ব্যবসাকে সরকার শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দেশি ও আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্যে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজশিল্পে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজি বিনিয়োগ করে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিপিং ব্যবসায়ীরা নিজের দেশ থেকে যেভাবে সুযোগ-সুবিধা পান বাংলাদেশে তা নেই বললেই চলে। ফলে প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্ববাজারে পিছিয়ে পড়ছে দেশীয় জাহাজশিল্প। কমতে থাকে দেশীয় জাহাজের সংখ্যা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা ছিল ৬৩, যা পরের অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৪৭-এ। গত বছরের শেষের দিকে তা আরও কমে নেমে আসে ৩৮-এ।
সুত্র আরও জানায়, আজকের বৈঠকে গত বছরের (২০১৮) শেষ ৩ মাসের মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হার সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক বলে জানা গেছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৩ মাস অন্তর মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এছাড়া বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৯ এর খসড়া অনুমোদনের প্রস্তাব। প্রস্তাবিত শ্রম আইনে ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকরা তাদের কল্যাণের স্বার্থে ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারবে। বিষয়টি দাতা সংস্থাদের পরামর্শ রয়েছে। তবে ট্রেড ইউনিয়ন করতে গিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।