অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে মাদারীপুর জেলার তরমুগুরিয়ায় গড়ে তোলা বিসিক শিল্পনগরীর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত ১৬ জানুয়ারি এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
প্রকল্পটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য ২১ জানুয়ারী অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ।
মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরীর সম্প্রসারণে নতুন করে ২০ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয় হবে। এতে ব্যয় হবে ৩০ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে শিল্পনগরীর সকল ধরনের সমস্যা সমাধান এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) ১৬ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ১৯৮১ সালে শিল্পনগরীটি স্থাপন করে । ১৯৮০ সালে মূল প্রকল্প (পিপি) অনুমোদনের পর ১৯৮১ সালে তিন পর্বে এবং ১৯৮৫ সালে চতুর্থ পর্বে শহরসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদে জেগে ওঠা চরে ১২.৯৬ একর ও হুকুম দখলকৃত ০৩.৩৭ একর জমি মাদারীপুর বিসিক শিল্প নগরীর জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১০.৫৬ একর জমি প্লটভুক্ত, প্রশাসনিক ভবন ০.৮৭ একর, রাস্তা ড্রেন, অ্যাপ্রোচ রোড ও গ্রিন স্পেস হিসেবে রাখা হয় ৪.৯০ একর জমি। প্লটভুক্ত জমিকে ১৩৫টি প্লটে ভাগ করে বরাদ্দযোগ্য ১২৬টি প্লট বিভিন্ন শিল্প ইউনিট মালিকদের ক্রমান্বয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়।
৮০ দশকে মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট নিতে ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ দেখা গেলেও ৯০ দশকের পর থেকে এখানে প্লট বরাদ্দ নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে শিল্প ইউনিট মালিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বর্তমানে কোনো খালি প্লট না থাকায় বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্প মালিকদের চাহিদানুযায়ী প্লট বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।