ব্যবসা-বাণিজ্যে জলপথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্য একতরফা ভারতের পক্ষে থাকায় এই সম্ভাবনা কাজে লাগছে না বলে মন্তব্য করেছেন সেমিনারে বক্তারা।
তাঁরা বলেন, দুই দেশের জলপথের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানো যায়। এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ, পর্যটন আকর্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাভবান হতে পারে।
এক সেমিনারে এসব কথা বলেন দুই দেশের বক্তারা। ‘সমুদ্র শিল্প: ভারত-বাংলাদেশের সামনে সুযোগ’ শীর্ষক এই সেমিনার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স এবং ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (আইবিসিসি) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, জলপথ ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়ায় রপ্তানি প্রতিযোগিতায়ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ আছে দুই দেশের সামনে। কিন্তু অভিন্ন নদীর প্রশ্নে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি একপেশে হওয়ায় পানির ন্যায্য হিসসা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এ কারণে অনেক নদী শুকিয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারত থেকে পণ্যবোঝাই জাহাজ বাংলাদেশে আসে, কিন্তু ফেরার সময় যেতে হয় খালি জাহাজ। কারণ দুই দেশের বাণিজ্যও একতরফা ভারতের পক্ষে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, জলপথে সংযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশই লাভবান হবে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দুই দেশের মধ্যে নৌ যাতায়াত ছিল। অভিন্ন্ন নদী প্রশ্নে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের জন্য সহায়ক নয়। এমনকি ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে যে ধরনের বোঝাপড়া আছে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সেটা নেই। এসব কারণে নদী শুকিয়ে যায়। আবার বাংলাদেশের জটিল কাস্টমস ইত্যাদিও কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, জলযোগাযোগ প্রতিস্থাপনে দুই দেশের সরকারকে ব্যবসায়ী এবং যাত্রীদের কথা শুনে সমাধান দিতে হবে। যৌথ জলবিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে কম দরে শিল্পে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে। দুই দেশের উদ্যোক্তারা যৌথভাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ করতে পারে।
ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. আদর্শ সোয়াইকা বলেন, সম্ভাবনা অনুযায়ী দেশের জলযোগাযোগ কাজে লাগানো যায়নি। তবে ভারত আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে বন্দর উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের লাইন অব ক্রেডিটসহ বিভিন্ন উদ্যোগে জলপথের উন্ন্নয়ন হচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এখন আর পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় জাহাজ এ দেশ থেকে খালি ফিরে যাবে না। নৌপরিবহন সচিব আব্দুস সামাদ বলেন, জলপথের সংযোগ পণ্য, পর্যটন ও যাত্রী পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে নৌ যাতায়াত, পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেন তিনি।
এ সময় দুই দেশের বাণিজ্য প্রসঙ্গে নৌপরিবহন সচিব বলেন, বাংলাদেশে ভারতের আমদানির তুলনায় রপ্তানি সাত থেকে আট গুণ বেশি। পণ্য নিয়ে ভারতের জাহাজ আসে। ফিরে যায় খালি জাহাজ। দুই দেশের মধ্যে জলপথের যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বিশাল যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে তা কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরো তৎপরতা থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেমিনারে বক্তব্য দেন আইবিসিসির সভাপতি মাতলুব আহমাদ, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।