
ই-বর্জ্যের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা প্রতিষ্ঠিত হলে এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা অনেক সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মতামত তুলে ধরেন তিনি।ই-বর্জ্য কোনো না কোনোভাবে ব্যবস্থাপনার পর্যায়ের নিয়ে আসার জন্য দীর্ঘদিন হতে নানা জায়গায় নানাভাবে নিজের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ই-বর্জ্য এখন বেশ দৃশ্যমান। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে একটি সম্ভাবনাও। সম্ভাবনাটা আমাদের জাতিগত ভাবেই দেখা যায়। আমরা পুরোনো খবরের কাগজকে ঠোঙ্গা বানিয়ে আসছি বহুকাল ধরে, এটা শুধু সামান্য একটা উদাহরণ। এমন অনেকক্ষেত্রেই আমরা অনেক কিছু আবার ব্যবহারযোগ্য করে নিচ্ছি।‘ই-বর্জ্য কমানো যাবে না, কারণ বহুবিধ। অন্যতম কারণ আমাদের ইলেক্ট্রনিক্স ও ডিজিটাল পণ্যের ব্যবহার বাড়ছেই। প্রযুক্তি পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরাও নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে যাচ্ছি। থ্রিজি হতে ফোরজিতে সিম বদলাতে হয়েছে, এই সিম ই-বর্জ্য হয়েছে। ফোরজি হতে ফাইভজিতে যখন যেতে হবে তখন হ্যান্ডসেটই বদলাবে হবে। এখন দেশে ডিজিটাল ডিভাইস তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে ই-বর্জ্য বাড়বে।’মোস্তাফা জব্বার জানান, দেশে এই রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রির নতুন প্রচেষ্টোকে নানাভাবে উৎসাহিত করবে সরকার। ট্যাক্স হলিডে, বর্জ্য রপ্তানিতে ক্যাশ ইনসেনটিভ, ইকোনিক জোন-হাইটেক পার্কের বিশেষ সুবিধাগুলো এই খাতের উদ্যোক্তারা পেতে পারেন।ই-বর্জ্য নীতিমালা দ্রুত পাস করার জন্য তিনি নিজে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ই-বর্জ্য নীতিমালা হচ্ছে পুরো খাতটির আইনগত ভিত্তি। যার উপর ভিত্তি করে বাকি সব কাজ করা যাবে।টিআরএনবি সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে ‘ই ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট: এ হিউজ চ্যালেঞ্জ ফর বাংলাদেশ’ বিষয়ক এই গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুলতান আহমেদ, রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব।জহুরুল হক বলেন, হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বলা হয়ে থাকে। ই-বর্জ্যের বিষয়ে বিটিআরসি তৎপর রয়েছে।সুলতান আহমেদ বলেন, ই-বর্জ্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে। মূলত এটি দেখতে খারাপ না, গন্ধ ছড়ায় না। কিন্তু চোখের অজান্তে এটি পানি-বাতাস দূষিত করে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারত্মক পরিস্থিতি তৈরি করছে।তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ যা ২০১০ সালে সংশোধিত হয়েছে, সেই আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী ই-বর্জ্য বিধিমালা করা হয়েছে। এটি ইতোমধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। এখন সম্ভবত আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের অপেক্ষায়। মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, রবি ২০১৫ সাল হতে স্বল্প পরিসরে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন। এখন এই কার্যক্রম সারাদেশে বাড়াতে চান তারা। রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, শিগগিরই ঢাকার বড় দু-একটি শপিং মলসহ পাঁচটি জায়গায় ই-বর্জ্য সংগ্রহে উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা।টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মোবাইল ফোন অপারেটর ও হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের প্রতিনিধি এবং খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।