শেষ হয়নি শীতকাল, বসন্তের আগমন এখনো দেরি। তবে বসন্ত না আসলেও থেমে নেই শিমুলের ফুল ফোটা। দেশের বিভিন্ন জেলায় বাগানে-বাগানে ফুটেছে শিমুলের লাল রঙ্গা ফুল ।
এ যেন বসন্তে নয়, মাঘেই ফাগুন লেগেছে শিমুলের বনে। আগুনের মতো হাজারো ডালে ফুটে থাকা ফুল মন রাঙিয়ে দিচ্ছে শীতেই।
অন্যান্য বছর ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহ থেকে ফুল ফোটা শুরু হলেও এবার জানুযারীর মাঝামাঝি থেকেই শুরু হয়েছে শিমুল ফুল ফোটা। আগাম ফোটা এই শিমুল ফুল হয়ত বসন্তের বাউল মন রাঙ্গাবে না।ঋতুরাজের আগমনের আগেই হয়তো ঝরে পড়বে এর পাপড়ি-মুকুল।
বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে, সারিবদ্ধভাবে লাগানো গাছগুলোয় ফুটে থাকা শিমুলের লাল পাপড়ির রক্তিম আভা বাতাসে দোল খাচ্ছে। হাওর, পাহাড়, নদীর পাশের নতুন আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে লালে লাল শিমুল বাগানগুলো।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে ২০০২ সালে বাণিজ্যিক ভাবনা থেকে উপজেলার বাদাঘাট ইউপির প্রয়াত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন যাদুকাটা নদীর পশ্চিমপারের ৯৭ বিঘা অনাবাদি ধু ধু বালিয়াড়িতে শিমুল বাগানটি তৈরি করেন। তিন হাজার শিমুলের চারা রোপণ করা বাগানের গাছগুলো গত ১৫ বছরে অনেক বড় হয়েছে, পত্রপল্লবে পেখম মেলছে, গাছে গাছে প্রস্ফুটিত ফুলে লালে লাল হয়ে আছে যাদুকাটা নদীর তীর। আর দেশের সবচেয়ে বড় এই শিমুল বাগানের প্রাকৃতিক-নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছেই। পাতাঝরা দিনের শুরুতে ডালে ডালে ফুটে থাকা লাল ফুল যেমন রাঙিয়ে দেয় দর্শনার্থীদের মন, বর্ষায় সারিবদ্ধ শিমুল বাগানের সবুজ পাতার সুনিবিড় ছায়াও তেমনি দিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। তাইতো বাগানটিতে বর্ষায়ও শত শত পর্যটক ছুটে আসেন। প্রতিদিন বিকালে ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের গ্রামের দর্শনার্থীরাও।
প্রয়াত বাগান মালিকের ছেলে বাদাঘাট ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আপ্তাব উদ্দিন জানান, এবারই প্রথম শীতকালে ফুলের মেলা বসেছে। শিমুল বাগানটি তার প্রয়াত বাবা জয়নাল আবেদীনকে সারা দেশের মানুষের সামনে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।
ট্রাভেল গ্রুপ ‘ভ্রমণ পোকা’-এর পরিচালক লাভলু ইসলাম জানান, গত বছরের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে বাগান দেখতে আসেন তিনি। এবার আগেভাগে ফুল ফোটায় ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই আসছেন তারা। তার মতে, বাগানে ফুল ফোটার মুহূর্তটা অন্যরকম।