পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে গেলেন ড.এ কে এম আব্দুল মোমেন। আর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে বেছে নেন তিনি।সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার সরকারি বাসভবনে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের চলমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সোনালি অধ্যায়কে আরও শক্তিশালী করতে অঙ্গীকার করেছে দুই পক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার ড. মোমেনকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভারতকে বেছে নেওয়ায় তার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয় অবহিত করেন।
এ সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভেশ কুমার বলেন, নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ঢাকার নতুন গঠিত সরকারের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে প্রত্যয় জানান তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন চুক্তি, অংশীদারিত্ব ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতি নিয়ে প্রশংসা করেন।
সূত্র জানায়, এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো বিশেষ মিষ্টি পৌঁছে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, নয়াদিল্লি সফরে আগামীকাল শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এরপর দুই দেশের যৌথ কমিশনের সভায় নেতৃত্ব দেবেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই), রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও ভারতের প্রসার ভারতী এবং দুই দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে।
সমঝোতা স্মারকে সই হওয়া বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, কিছু সমঝোতা স্মারক সই করা হতে পারে। ফিরে আসি, তখন পুরোপুরি জানানো হবে।’ সফর শেষে শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশে ফেরার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
এর আগে, বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সর্বশেষ যৌথ কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠক ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।