প্রতি বছর বাংলাদেশে ১৫০ লাখ ডলারের ফুলের বাজার রয়েছে বলে জানিয়েছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। তিনি বলেন, এই বাজারের পরিমাণ আরও সম্প্রসারিত হবে।আর এই অর্থনীতির কারণেই বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
সোমবার ১১ ফেব্রুয়ারী যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালির পানিসারা এলাকায় ফুলচাষ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার যশোর ও খুলনা এলাকা পরির্দশনের অংশ হিসেবে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে গদখালিতে যান। সেখানে ফুলের শেড পরিদর্শন ও চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এ অঞ্চলের চাষীদের ফুলচাষ দেখে আমি খুবই খুশি হয়েছি। এখানে উন্নতমানের ফুল উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। রপ্তানির চেয়ে মানসম্মত ফুল উৎপাদনে কাজ করছে আমেরিকা।
রবার্ট মিলার তার স্ত্রী সর্ম্পকে বলেন, আমার স্ত্রীও একজন চাষি। তিনি সবজি চাষ করেন। আপনাদের ফুলচাষ দেখতে এসেছে। ফুলচাষে এ অঞ্চলের নারীরা অংশ নিচ্ছে। এ সম্ভাবনা বাড়াতে ও চাষিদের উন্নয়নে ইউএসআইডি কাজ করছে। তারা কৃষিক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চায়।
এ্ই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী মিশেল এডেলম্যান, আমেরিকার ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর জেনা সালাহ।
এ সময় এলাকার চাষিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে মার্কিন সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
মিশেল বলেন, আমি গুল্মজাতীয় সবজি চাষ করি। ফুল আমার খুব পছন্দ। আপনাদের ফুলচাষ দেখতে এসেছি। এখানে দেখছি নারীরাও ফুলচাষ করছে। আমার খামারেও ৬৫ জন নারী কাজ করেন।
ডেপুটি মিশন ডিরেক্টর জেনা সালাহ বলেন, ফুল আমার খুব পছন্দ। আপনারা কীভাবে ফুলচাষ করেন, সেটি দেখতে এসেছি। ইউএসএআইডির সহযোগিতায় কীভাবে ফুল বিপ্লব হয়েছে সেটি দেখার জন্যই এসেছি।
ইউএসআইডির প্রাইভেট সেক্টর বিভাগের উপদেষ্টা অনুরুদ্ধ রায় জানান, তারা চাষিদের উন্নত চাষাবাদ ও মানসম্মত ফুল উৎপাদনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এতে উৎপাদনশীলতা ১৫০ ভাগ পর্যন্ত বেড়েছে। এজন্য পানিসারায় বাংলাদেশের প্রথম ফ্লাওয়ার স্টোর নির্মাণ করেছে। আগামীতে প্যাকেজিং, গ্রেডিং ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, যশোরের স্থানীয়র সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নূর ই আলম, বিএডিসি (সেচ) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম, ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম ও প্রবীণ চাষি শের আলী।