২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হাজারের বেশি শ্রমিক মারা যায়।এঘটনায় ঝড় ওঠে দেশে-বিদেশে। হুমকির মুখে পড়ে দেশের তৈরী পোশাক খাত। ভবন আর কারখানার নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বাজারে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা (জিএসপি) বাতিল করে, যা আজও পুনর্বহাল হয়নি।
ওই ঘটনার পর থেকে দেশের তৈরি পোশাক কারখানার অগ্নি ভবন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ শুরু হয় দেশি-বিদেশি সহযোগিতায়। আসে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট সংস্থা অ্যালায়েন্স ও ইউরোপের অ্যাকর্ড। সেই উদ্যোগে আজ দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বিশ্বের কাছে নিরাপত্তার স্বীকৃতি পেয়েছে গত পাঁচ বছরে। ঝুঁকিতে পড়া পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ খাত থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রপ্তানি আয় আসছে। একই সঙ্গে দেশে আরেকটি বিশেষ খাত তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা সরঞ্জামের খাত। তিন বছরে এই খাতের লেনদেন হয় আরো তিন হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে বছরে এর বাজার দাঁড়িয়েছে হাজার কোটি টাকা।
বিষয়টি জানান ইলেকট্রনিক সেইফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) নেতা ও ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেইফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০১৯ মেলা কমিটির আহ্বায়ক এম মাহমুদুর রশিদ। সম্প্রতি রাজধানীর শ্যামলীতে গ্রাস হোপারের এমডি আসন্ন মেলা উপলক্ষে এ সংক্রান্ত নানা দিক তুলে ধরেন।
মাহমুদুর রশিদ ২০০৮ সালে ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করেন। কুষ্টিয়ায় একটি টেক্সটাইল মিলও রয়েছে তাঁর। ফায়ার অ্যান্ড সেইফটি ইকুইপমেন্টের বাজারে আসেন ২০১২ সালে। এর পর থেকে ফায়ার সেইফটি ইকুইপমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি জানান, একসময় লোকের মাঝে অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম নিয়ে তেমন ধারণা না থাকলেও বর্তমানে এটি একটি সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে। যদিও দেশে এসব পণ্য শতভাগ আমদানিনির্ভর। এর প্রধান ভোক্তা গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি হাইরাইজ কমার্শিয়াল বিল্ডিং। এ ছাড়া দেশের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পেও কাজ করছেন তাঁরা। এই ব্যবসার মূল কাজ হলো ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এসময় মাহমুদুর রশিদ বলেন, তাজরীন ফ্যাশন অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর নিরাপদ কর্মপরিবেশের ঝড় ওঠে বাংলাদেশে। দেশে অগ্নিনিরাপত্তা বলতে একসময় শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশারের ব্যবসাকে বোঝাত। কিন্তু ফায়ারের ব্যবসা শুধু এক্সটিংগুইশারই নয়। এই ব্যবসার মানে হলো একটি ভবনের পুরো নিরাপত্তা। বিষয়টি একসময় মানুষ খুব একটা বুঝতেন না। বর্তমানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি করা হয়েছে।
অগ্নিনিরাপত্তা বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় বাজারে মাত্র দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠান ছিল।যেগুলোর কাজের কোনো নিজস্ব মানদণ্ড ছিল না। বলা যায়, যেনতেনভাবে করা হতো। কিন্তু রানাপ্লাজা ধসের পর এই প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন আসে। অগ্নিনির্বাপণ ও ভবন নিরাপত্তায় ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বিজিএমইএ সদস্য কারখানা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। এসব কারখানা বর্তমানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়েছে। ২০১২-১৩ সালে ২০-২২টি প্রতিষ্ঠান কাজ করত। ১০০ কোটি টাকারও কম ফায়ার ইকুইপমেন্ট বিক্রি হতো। বর্তমানে হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়েছে। ছোট-বড় প্রায় তিন থেকে চার শ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছিল সবচেয়ে ভালো বাজার। সে সময় একটি গার্মেন্ট কারখানা কমপ্লায়েন্স করতে প্রায় তিন কোটি টাকা লাগত। আর তিন হাজার কারখানা কমপ্লায়েন্স করতে হয়েছে। সে হিসেবে ৯ হাজার কোটি টাকার ভবন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার হয়েছে ওই সময়ে।