সরাসরি ২৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে পোল্ট্রি শিল্পে । এ শিল্পের ওপর পরোক্ষভাবে আরো প্রায় ৩৫-৪০ লাখ মানুষ নির্ভরশীল । সব মিলিয়ে পোল্ট্রির ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬৫ লাখ। বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) হিসাব অনুসারে ২০৩০ সাল নাগাদ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
রাজধানীর একটি হোটেলে বিপিআইসিসি আয়োজিত সংগঠনটির সভাপতি মসিউর রহমান মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য জানান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২১ সালে বছরে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি ডিম (প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার কোটি ১১ লাখ ডিম), ২০ লাখ টন (দিনে ৫.৫ হাজার টন) মুরগির মাংস, ৮৫ কোটি ৮০ লাখ (সপ্তাহে এক কোটি ৬৫ লাখ) এক দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা এবং বছরে ৬৫-৭০ লাখ টন ফিড (মাসে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টন ফিড) উৎপাদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পোল্ট্রি শিল্পে মোট বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে প্রায় ৫৫-৬০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে আরো প্রায় ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সেভ দ্য চিলড্রেনের (মার্চ ২০১৫) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালে শিশুদের অপুষ্টির হার ছিল ৬০ শতাংশ, ২০১১ সালে তা ৪১ শতাংশে নামে। বর্তমানে এ হার আরো নিম্নগামী। পোল্ট্রির ডিম ও মুরগির মাংস উৎপাদন বাড়িয়ে এ অপুষ্টির হার স্বল্পতম সময়ে আরো কমিয়ে আনা সম্ভব।
মূল প্রবন্ধে মসিউর রহমান বলেন, ২০০৯-১১ সালে পোল্ট্রি শিল্পের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশ। ২০১৬-১৭ সালে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় পোল্ট্রি শিল্প ভূমিকা রেখে চলেছে। এ শিল্পে নিয়োজিত জনশক্তির ৪০ শতাংশই নারী।
বর্তমানে এ শিল্পে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার গড়ে প্রায় ১৫-১৮ শতাংশ। ২০০৭ সালের আগে তা ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। জিডিপিতে পোল্ট্রি খাতের অবদান উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান প্রায় ২.৫ শতাংশ এবং পোল্ট্রি শিল্পের অবদান প্রায় ১.৫-১.৬ শতাংশ। পোল্ট্রি খাতের বাণিজ্যিক খামার ৭০-৯০ হাজার, জিপি খামার ১৬টি (কম্পানির সংখ্যা ৮), পিএস খামার ২০৬টি, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সদস্য ১১২টি। রেজিস্টার্ড ফিড মিল ২০১টি, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনে নিবন্ধিত ৮০টি।
তিনি বলেন, আশির দশকে বিনিয়োগ ছিল এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা, বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। হ্যাচিং ডিম আমদানি করতে হতো। এখন অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়েই হ্যাচিং ডিমের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। আগে ডিম এবং ব্রয়লার মুরগি আমদানি করতে হতো। এখন তা হয় না। আগে আধুনিক ফিড ইন্ডাস্ট্রি বলে কিছু ছিল না। শতভাগ প্যাকেটজাত ফিড আমদানি করা হতো। কিন্তু এখন প্রায় ২০১টি ফিডমিল গড়ে উঠেছে। এখন আর প্যাকেটজাত ফিড আমদানি হয় না। উল্টো আমরাই রপ্তানির চিন্তা-ভাবনা করছি। আগে দেশীয়ভাবে তেমন কোনো ওষুধ তৈরি হতো না। পুরোটাই ছিল আমদানিনির্ভর। বর্তমানে প্রায় ৩০টি কম্পানি দেশীয়ভাবে বিভিন্ন ওষুধ তৈরি করছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান।