চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের অনেক স্বজনই একটি হাসপাতালের মর্গ থেকে ছুটে বেড়াচ্ছেন আরেকটি হাসপাতালের মর্গে। প্রিয়জনের মরদেহ কোথায় আছে জানেন না স্বজনেরা।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেশ কয়েকজনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। তবে যেসব মরদেহ চেনার উপায় নেই তাদের স্বজনেরা হতাশ হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
ওই অগ্নিকাণ্ডে আবার যারা নিখোঁজ রয়েছেন- তারা বেঁচে আছেন নাকি পুড়ে ছাই হয়ে গেছেন তাও জানেন না স্বজনেরা। শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ভিড় করেছেন অনেকে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২২ জনের লাশ শনাক্ত করা যায়নি। খোঁজ মেলেনি অনেকের। পরিচয়হীন ২২টি লাশ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে চারজনের লাশ। ১৫ জনের লাশ জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে এবং তিনজনের লাশ অন্য দুটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এসব লাশের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে লাশের সন্ধানে আসা স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে। যাদের সঙ্গে ডিএনএ মিলে যাবে তারাই তাদের স্বজনদের মৃতদেহ ফিরে পাবেন।
বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিআইডির সহকারী ডিএনএ অ্যানালিস্ট নুসরাত ইয়াসমিন বলেন। তিনি জানান, লাশের সন্ধানের স্বজনদের রক্তের নমুনা রাখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টির জন্য ৭ থেকে ২১ দিন সময় লাগবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের খোঁজে অনেক স্বজনই ভিড় করেছেন মর্গের সামনে। স্বজন হারাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
কেউ কেউ ঢাকা মেডিকেলে লাশ না পেয়ে ছুটে গেছে অন্য হাসপাতালের মর্গে। দুইদিন ধরে মর্গ থেকে মর্গে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজছেন তারা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত ৪৫ জনের লাশ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
