চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুন দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ ব্যক্তির নাম মেহেদী হাসান রেজাউল (২২)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
শুক্রবার (১ মার্চ) ভোরে মারা যান রেজাউল। বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রেজাউলের শরীরের ৫১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
রেজাউলের বোন জামাই আমির হোসেন জানায়, কেরানীগঞ্জ আটিবাজার এলাকায় থাকতেন রেজাউল। তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলায়। বাবার নাম বিল্লাল ব্যাপারী।
রেজাউলের স্বজনরা জানান, রেজাউল চকবাজার চুড়িহাট্টার হাজী ওয়াহেদ ম্যানসনের দ্বিতীয় তলায় ‘অল ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি পারফিউম গোডাউনে চাকরি করত। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই ভবনে আগুন লাগলে দগ্ধ অবস্থায় ওই ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন তিনি।
এর আগে, একই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক রিকশাচালক ও সোহাগ (২২) নামে আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চুড়িহাট্টার আগুনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে।
সোমবার বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, আনোয়ার ও সোহাগের শরীর ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
আনোয়ারের মেয়ে বীথি আক্তার জানান, তাদের বাড়ি রাজবাড়ি জেলা সদরে। কামরাঙ্গীর চর ছাতা মসজিদ এলাকায় থাকেন তারা। তার বাবা পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। তারা দুই ভাই-বোন।
উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগে চকবাজারের হাজী ওয়াহেদ ম্যানসনে। ওই ভবনে থাকা কেমিক্যালের গোডাউন থাকায় আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দগ্ধ আরও ৪১ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।