মিয়ানমার থেকে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য সরকারের প্রস্তুতি থাকলেও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
রোববার (১০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মাই ইয়ো ওমেন সাবমিট এন্ড এসডিজি অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন,সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজটি শেষ করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি বৃষ্টির আগে কিছু রোহিঙ্গা সেখানে পাঠানো গেলে তারা সুখে থাকবে। কিন্তু কিছু কিছু লোক রোহিঙ্গাদের বলছে ভাসানচরে না যেতে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে সেখানে ১০০ এর বেশি এনজিও কাজ করে। রোহিঙ্গাদের এক ধরনের বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারের প্রস্তুতি থাকলে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কাজটি করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, কিন্তু ভাসানচরে গেলে রোহিঙ্গারা সুখে থাকবে। ওখানকার ঘরবাড়িগুলো বেশ সুন্দর। ওখানে কাজের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি যেকোনো দিন তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুরু হয়ে যাবে।
ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক যারা আছে তারা যেন আবার স্বদেশে ফিরে যায়। সুন্দর শান্তিতে জীবন-যাপন করবে। আমাদের এখানে অতিথি হিসেবে তারা আছে। আমাদের সাধ্যমতো আমরা তাদেরকে সুখে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা দেশে ফিরে গেলেই মানুষের মতো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী মিয়ানমার আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ। তারা আমাদেরকে বলেছিল, তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবে। আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন আয়োজনও করেছিলাম। কিন্তু তারা তাদের কথা রাখছে না।
তিনি বলেন, আর আমাদের ওআইসির (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশান) যেখানে সভা হয়, সেখানে অন্য একটি মেম্বার দেশ জাম্বিয়া রোহিঙ্গা বিষয়ে কথা বলে। এরপর ওআইসি সেটা নিয়ে একটা রেজুলেশন তৈরি করে এবং আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) তদন্ত করবে। সুতরাং তারাই তদন্ত করছেন। সেজন্য তথ্য সংগ্রহের জন্য তারা এসেছেন। আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করছি।