ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বর্জন করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সমর্থিত প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ভোট বর্জনের পাশাপাশি মঙ্গলবার (১২ মার্চ) থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা। এ সময় সব ক্লাস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রগতিশীল বামজোট, ছাত্র ফেডারেশন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোট প্রত্যাখ্যান করেন বামজোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী।
এই সংবাদ সম্মেলনে অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদলের প্রতিনিধিরাও এ সময় মধুর ক্যান্টিনে উপস্থিত থেকে সমর্থন দেন।
পরে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে প্রশাসনের ব্যর্থ এবং অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের কারণে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারেনি, এমন অভিযোগে ভোট বাতিলের দাবি জানিয়েছে সরকার সমর্থিত জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রী।
ভিসি ভবনে অবস্থান নিতে যাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরাসংবাদ সম্মেলনে লিটন নন্দী বলেন, ‘আমরা এই প্রহসন ও জালিয়াতির নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’
লিটন নন্দী নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন, একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ করতে হবে।’
জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি আহসান হাবিব শামীম বলেন, ‘২৮ বছর পর হওয়া এ ভোট নিয়ে মানুষের অনেক আশা ছিল। তবে সেই আশা পূরণ করতে পারেনি প্রশাসন। ভোট সুষ্ঠু হয়নি। এই ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট আয়োজন করতে হবে।’
অন্যদিকে, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল বলেন, ভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। আমরা পুনরায় ভোটের দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়া ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনও নির্বাচন বর্জন করেছে। দুপুর ২টায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত আতায়ে রাব্বী-মাহমুদ-শরীয়ত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী এস.এম.আতায়ে রাব্বী ও জিএস প্রার্থী মাহমুদুল হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে ডাকসু নির্বাচনের ভোট বর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
পরে ক্যাম্পাসে ভিতরে নিজেদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল বামজোট, ছাত্র ফেডারেশন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও পৃথক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।