ফাইভজিতে বিনিয়োগ করবে বিশ্বের ৮৭টি দেশ

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২৮ ০৭:৫৯:০৭


বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি। এমন ইতিবাচক ধারণা থেকে বিশ্বের ৮৭টি দেশের ২১১টি সেলফোন অপারেটর ফাইভজিতে বিনিয়োগ শুরু করেছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হ্যাডেন টেলিকমস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়। খবর টেলিকম এশিয়া।

নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো ও প্রদর্শন এবং ফাইভজি-সংশ্লিষ্ট পাইলট প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে সেলফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো।

হ্যাডেন টেলিকমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৫টি সেলফোন অপারেটর বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি সেবা চালু করেছে। এর মধ্যে টেলেস্ট্রা ও অস্ট্রেলিয়ার অপটাস ৩ দশমিক ৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের আওতায় এরই মধ্যে ফিক্সড ওয়্যারলেস ফাইভজি সেবা সরবরাহ শুরু করেছে। ভোডাফোন অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক অপারেটর এনবিএন কো. এরই মধ্যে ফাইভজিতে বড় বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে।

এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কেটি, এলজি ইউপ্লাস ও এসকে টেলিকম তাদের নেটওয়ার্ক সেবা গত বছরই ৩ দশমিক ৫ গিগাহার্টজের আওতায় ফাইভজিতে উন্নীত করেছে। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় সাধারণ গ্রাহকের জন্য সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে চীনের বৃহৎ তিন সেলফোন অপারেটর চায়না মোবাইল, চায়না টেলিকম ও চায়না ইউনিকম, চায়না মোবাইল হংকং, এইচকেটি ও স্মার্টটোন এবং ভারতের ভারতী এয়ারটেল, বিএসএনএল ও রিলায়েন্স জিও ইনফোকম এরই মধ্যে ফাইভজিতে বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে।

জাপানে কেডিডি, এনটিটি ডোকোমো, রকুটেন মোবাইল ও সফটব্যাংক ফাইভজিতে ব্যাপক পরিসরে বিনিয়োগ শুরু করেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার সেলকম, ডিজি, ম্যাক্সিস, টেলেকম মালয়েশিয়া ও ইউ মোবাইল এবং ফিলিপাইনের গ্লোব ও পিএলডিটি এরই মধ্যে ফাইভজি প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে।

সিঙ্গাপুরের এম১, সিংটেল ও স্টারহাব, শ্রীলংকার ডায়ালগ আজিয়াটা ও মোবিটেল, তাইওয়ানের এপিটি, চুনহুয়া টেলিকম, ফার এসটন ও তাইওয়ান মোবাইল ফাইভজিতে বিনিয়োগ করেছে। থাইল্যান্ডের এআইএস, ডিট্যাক, টিওটি ও ট্রুমভ এবং ভিয়েতনামের ভিয়েটেল ফাইভজি সেবা দিতে বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮১টি দেশের ১৯২টি সেলফোন অপারেটর ফাইভজিতে বিনিয়োগ করেছে। গত বছরের জুলাই পর্যন্ত ৬৬টি দেশ থেকে ফাইভজিতে বিনিয়োগকারী সেলফোন অপারেটরের সংখ্যা ছিল ১৫৪টি। তালিকায় সেসব সেলফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা এরই মধ্যে ফাইভজি প্রযুক্তি উন্নয়নে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি ফাইভজির প্রাথমিক স্ট্যান্ডার্ড প্রদর্শন ও নেটওয়ার্ক ফাইভজিতে হালনাগাদের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের ৪৬টি দেশের ৮০টি সেলফোন অপারেটর ২০২২ সালের মধ্যে ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সেলফোন অপারেটর রয়েছে, যারা ২০২০ সালের মধ্যে ফাইভজি চালু করবে।

বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, অদূর ভবিষ্যতে বৃহৎ ফাইভজি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক হতে পারে টেলিযোগাযোগ কোম্পানি ভেরাইজন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে বিভিন্ন শহরে ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস (এফডব্লিউএ) নেটওয়ার্ক সেবা চালু করেছে।