ভালো কাজের শুরুতেই হোচট খেলো শিল্পমন্ত্রণায়। দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সকল সেবা এক ছাদের নিচে নিয়ে আসতে প্রথম বারের মতো শুরু করেছে জাতীয় শিল্প মেলা -২০১৯। রোবার মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মেলার প্রথম দিন রোববার ঢাকা বড় ধরণের ঝড়ের কবলে পড়ে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই লোকসানের সঙ্কায় দিন কেটেছে ব্যবসায়ীদের। তবে মেলার সময় কিছুটা বাড়ালো এই লোকসান পুঁষিয়ে নিতে পারবে বলে ধারণা করছেন তারা।
এদিকে মেলা সামনে বাড়ানো হবে কি না; সেই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রণালয়। তবে সময় বাড়ানোর একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন মেলায় দায়িত্বরত একজন।
গত ৩১ মার্চ রোববার সকাল ১০:০০ টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে বেশ জাকজমক ভাবে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এ মেলার মূল লক্ষ্য হলো দেশিয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য এবং সেবা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার, প্রসার, বিক্রয় ও বাজার সম্প্রসারণ । এ ছাড়া বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, মাইক্রো, কুটির, হস্ত ও কারু এবং হাইটেক শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, যোগাযোগ এবং সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়তা করা । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো মেলা শুরুর প্রথম দিনেই হানা দিল কালবৈশাখি ঝড় । মেলাতে ছোট বড় মোট ৩০০ শত স্টল রযেছে । এতে বেশ কয়েকটি স্টল ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং লোকসানের মুখে পড়ে ব্যবসায়িরা ।
ঝড়ে ‘প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড” নামে একটি কোম্পানির পুরো স্টলটি উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং একটি অংশ তাদের শো রুমের গাড়ির ওপরে পড়ে এতে গাড়িটির সামনের অংশ ব্যাপক ক্ষতি হয় । কোম্পানির ম্যানেজার আবদুল আহাদ সানবিডিকে জানান এতে তাদের প্রায় ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে ।
অন্যদিকে ‘আনু ফ্যাশন বুটিকস” নামে একটি স্টল মালিক সানবিডিকে জানান ঝড়ে প্রায় তার ১ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে । তিনি আরও বলেন ক্ষতিপূরণ দুরে থাক এখন পর্যন্ত কর্র্তৃপক্ষের কাছে একটি টেবিলের আবেদন করেও পাইনি । কেউ আমাদেরকে একবার দেখার জন্যেও আসলনা ।
এ ছাড়া ‘শতরাজি পল্লী রংপুর লিমিটেড”- ২০০০০ টাকা, ‘সাজোয়া বিতান”-৩০০০০ টাকা, ‘ট্রাস্ট এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস”-১৫০০০ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন । বেশিরভাগ পণ্য বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায় । তবে কর্তৃপক্ষ কোন ক্ষয়ক্ষতি পূরনের আশ্বাস দেননি । যেহেতু মেলা শুরু হওয়ার প্রথম দুইদিন লোকসান দিতে হয়েছে সেহেতু ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন মেলার সময় আরও দুই দিন বাড়ালে হয়তো তাদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন ।
তবে এ ব্যাপারে শিল্পমন্ত্রণালয়ের উপ সচিব প্রতুল কুমার সাহা সানবিডিকে বলেন, মেলায় খুব বেশি একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি । অন্যদিকে মেলার সময় বাড়ানোর ব্যাপারটি শিল্পমন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে জানানো হবে, তবে এ ব্যাপারে হ্যাঁ সুচক আশাবাদি । আপাতত ৬ ই এপ্রিল পর্যন্ত মেলা চলবে ।