ব্যক্তি খাত বা বেসকারি বিনিয়োগই কর্মসংস্থান সৃষ্টির একমাত্র পথ।ফলে বেসরকারি বিনিয়োগে নজরদারি বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন(ডিবিএম) এর বক্তারা। তারা বলেন, আমাদের অর্থনীতি ব্যক্তি খাত নির্ভর। মোট কর্মসংস্থান এর মাত্র ৩.৮ শতাংশ সরকারি খাতের। বাকি ৯৬.২ শতাংশ কোন না কোন ব্যক্তি খাতের।
আজ রবিবার( ৭ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন (ডিবিএম) কর্তৃক আয়োজিত প্রাক- বাজেট মতবিনিময় সভায় এই সব দাবি করেন বক্তারা।
মতবিনিময় সভায় জনবান্ধব বাজেট চায়, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন (ডিবিএম)। যা জনগনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে বলে জানান তারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, আগামি জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করা হবে। এবারের বাজেটের আকার হতে পারে ৫ লক্ষ কোটি টাকা। যদিও গত কয়েক বছরের বাজেট রেকর্ড ভাঙ্গবে এ বাজেট, তবুও সাধারন মানুষের আস্থা নাই এ বাজেটে। তৃণমুল পর্যায়ে জনগের মতামত ছাড়াই এ বাজেট করা হয়েছে। যেখানে সাধারন জনগন এই বাজেট এর সুফল ভোগ করতে পারবেনা। দেশের রাজনীতিতে দেখা যায় ৬০ ভাগ সংসদ সদস্য ব্যবসায়ী, তাই তাদের কথা বিবেচনা করেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়। সেখানে সাধারন মানুষ ধরাছোয়ার বাহিরে থাকেন। মানুষের জীবন ও সম্পদ নিয়ে একটি মহল ব্যবসা করে।
বক্তারা আরো বলেন, করের টাকা কি করে আজ জনগন জানতে চায়। ঋণ খেলাপি কেন হচ্ছে, কারা এর সাথে জড়িত রয়েছে। গার্মেন্টস মালিকরা তাদের ট্যাক্স ১০% নিচে আনতে চায়। এগুলো অযৌক্তিক। দেশের টাকা পাচার হচ্ছে। বাজেট বাড়ছে কিন্তু সাধারন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছেনা। বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক শ্রেণীর লোক ক্ষমতাবান হচ্ছে, হচ্ছে লাভবান। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বাজেট কম পায় কিন্তু কেন্দ্রিয় সরকার পুরোটা ভোগ করে।
তারা আরো বলেন, আমাদের দেশে অতি ধনীর সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু সাথে পাল্লা দিয়ে দরিদ্র এবং বেকারত্ব বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশু বেশি বৈষম্যের শিকার।বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ কখনোই ১ শতাংশের বেশি অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে সাধারন মানুষের 'আউট অব পকেট' ৬৭ শতাংশ গিয়ে ঠেকেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে মানুষ বসত ভিটা বিক্রি করতে হচ্ছে।
আমাদের দেশে মোট রাজস্ব আয়ের দুই তৃতীয়াংশ 'পরোক্ষ কর' যার মধ্যে অন্যতম ভ্যাট। যে কোন ধরনের পরোক্ষ করের বোঝা সাধারন মানুষকেই বইতে হয়। সাথে পাল্লা দিয়ে দিন দিন গ্যাস, বিদুৎ এর দাম বাড়ছে। সাধারন মানুষের নাগালের বাহিরে চলে গেছে সাধারন পণ্যের দাম। তাই জনগনকে সম্পৃক্ত করেই বাজেট করা উচিত। তৃণমুল পর্যায়ে বাজেট পৌছে দেয়া হোক। বিনিয়োগ হোক কর্মসংস্থান বান্ধব। নারী ও শিশুর প্রতি বৈষম্য দুর করা হোক। প্রতিটি শিল্পাঞ্চলে একটি করে হাসপাতাল করা হোক। বেকারত্ব নিরসনে বিশেষ দৃষ্টি থাকুক এই বাজেটে। শিক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হোক। এ বাজেটে সাধারন বস্তিবাসীদের কথাও বিবেচনা করা হোক। বেশি কিছু না পারলেও তাদেরকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করা হোক। এ ছাড়া কৃষিতে বাজেট বৃদ্ধি করা হোক।
উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, গনতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের ভাইস চেয়্যারম্যান আবুল কালাম আজাদ, এবং উপস্থাপনা করেন, ফারাহ কবির, কান্ট্রি ডিরেক্টর, একশন এইড বাংলাদেশ।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি ডা রশিদ-ই-মাহবুব,বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারন সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।
সানবিডি/এমএফ/এনজে