চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের অবরোধ চলছে। চলমান অবরোধের কারণে সোমবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের চলাচল বন্ধ রয়েছে। ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়নি শিক্ষকদের বহনকারী বাসগুলোও।
ষোলশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগের ডাকা অবরোধের কারণে শাটল ট্রেন চলছে না। কখন ট্রেন চলাচল শুরু হবে, সেটাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দফতরের প্রসাশক অধ্যাপক ড. রাশেদ উন নবী বলেন, সকালে চাকলরা বাস ছাড়তে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এ কারণে শিক্ষকদের বহনকারী কোনো বাস চলাচল করতে পারছে না।
এর আগে রোববার সকাল ৭টা থেকে অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার ছাত্রলীগের ৬ কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৪ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে প্রধান ফটক বন্ধ করে রাখে ছাত্রলীগের কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষক বাসের চাকা পানচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হুইস পাইপ কেটে দেয় অবরোধকারীরা। এ ছাড়াও সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় পর্যন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রাখে তারা। পরে পুলিশ এসে ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেতরে সব দোকানপাটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস বলেন, অস্ত্র মামলায় আটক ছাত্রলীগ কর্মীদের মুক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীর পদত্যাগ সহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
চবি ছাত্রলীগের ৪ দফা দাবিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীকে পদত্যাগ করতে হবে; হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীরকে পদত্যাগ করতে হবে; গত ৩ এপ্রিল অস্ত্র মামলায় আটক চবি ছাত্রলীগের ৬ কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে এবং ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।