বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপভোগ করে দুদিনের সফর শেষে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা নিয়ে শনিবার ঢাকায় ফিরেছেন ৩৫ দেশের কূটনীতিক ও সাতটি দেশের উন্নয়ন সহযোগীরা।
সফরকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আলবার্ট মিলার বলেছেন, সিলেটের শ্রীমঙ্গল রুপ বৈচিত্রে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের একটি অনন্য সুন্দর এলাকা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে এ কূটনীতিক আনন্দভ্রমণে তিনি খুবই আনন্দিত। এ সফরের সময়টি ছিলো তার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও এখানকার মানুষের আতিথেয়তা এবং এ অঞ্চলের অধিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সত্যিই উপভোগ্য। তিনি বলেন, এই এলাকায় এসে বাংলাদেশের প্রাণ প্রকৃতি ও কৃষ্টির সাথে পরিচয়ের অভিজ্ঞতা ও সুখখর স্মৃতি নিয়ে ফিরছি’। শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করে ভারতের রাষ্ট্রদুত রিভা গাঙ্গুলী দাশ বললেন, পুরো ভ্রমনটিই ছিলো আনন্দমুখর। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিতে যে অপরূপ বৈচিত্র্যময়তা রয়েছে এখানে এসে তা খুব কাছ থেকে অনুভব করলাম। তিনি বলেন, আমরা ভারতীয়রা এমনিতেই মনিপুরি নৃত্য ও সংস্কৃতির সাথে বেশ পরিচিত।
তবে এখানে এসে এ এলাকার মনিপুরিদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি দেখে আমি অভিভুত। এ সময় তিনি শ্রীমঙ্গলের রামনগর মনিপুরি পাড়ায় রমেশ রাম গৌঢ় এর আবিষ্কৃত ৭ রঙের চা পান করেও বেশ তৃপ্তিবোধ করেন।
পররাস্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন এমপি বলেন,পর্যটন খ্যাত থেকে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। কিন্তু বাংলাদেশে সে সব দেশের চেয়ে আরও আকর্ষণীয় হওয়ার পরও এ খাত থেকে আমাদের আয় জিডিপির ০.৫ পার্সেন্ট। আমাদের পর্যটন খাতটি অনেক দূর্বল। শ্রীমঙ্গলের মতো একটি অপূর্ব সুন্দর জায়গায় পর্যটকটের জন্য আকর্ষনীয়। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও তাদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য সমস্ত ফেসেলেটিজ রয়েছে। এখানে বেড়াতে এসে বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনৈতিকরা দেখে গেছেন। এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তাদের সাথে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় এবং তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খ্যাতটি বিশ্বে পরিচিত করা।
রাতে শ্রীমঙ্গল গ্র্যান্ড সুলতানের রোশনী মহলে কুটনৈতিকদের সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ও নৈশভোজে যোগদিতে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. উপাধ্যক্ষ মো: আব্দুস শহীদ এমপি বলেন, আমাদের এই এলাকাটা যে,পর্যটক বান্ধব উর্বর এলাকা এটি কুটনীতিকরা জেনে গেছেন এবং এ বিষয়টি তারা তাদের দেশের মানুষকে জানাবেন। কুটনৈতিকরা শ্রীমঙ্গলের প্রাণ প্রকৃতি উপভোগের পাশাপাশি এ এলাকার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি উপভোগ করেও তারা অভিভুত হয়েছেন বলে যোগ করেন তিনি।