
পুঁজিবাজারের স্বার্থে স্টেইকহোল্ডারদের দেয়া সকল প্রস্তাব বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।
বৈঠককে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএসইসির কমিশনারবৃন্দ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধি, ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা এবং পুঁজিবাজার স্টেকহোল্ডার কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে প্রতিনিধিরা যার যার জায়গা থেকে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- নিটিং চালু করা, স্ক্রিপ্ট নিটিং চালু করা, মেট্রোপলিটন এরিয়ার মধ্যে ট্রেকহোল্ডারদের ব্রাঞ্চ খোলার ব্যবস্থা করা, ঢাকার বাহিরে বুথ চালু করার ব্যবস্থা করা, তারল্য সংকট কাটাতে বন্ড ইস্যু করা, বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ডের ওপর দ্বৈতকর প্রত্যাহার, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির পুনরায় সংস্কার করা ইত্যাদি।
জবাবে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যেই কাজগুলো করা প্রয়োজন, তা যত দ্রুত সম্ভব করা হবে। বাকী যেগুলো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেগুলো অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, কিছু দিনের মধ্যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের দেখা হবে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের উপর আরোপ করা কর কমানের বিষয়টি তুলো ধরবো। আমি আশাবাদী আগামী বাজেটে বিষয়টি অর্থমন্ত্রী বিবেচনা করবেন। অন্যদিকে বাজারে ভালো কোম্পানি আনার বিষয়ে সকলকে একত্রে কাজ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। প্রয়োজনে বড় গ্রুপগুলোকে নিয়ে সভা-সেমিনার করার জন্যও বলেন তিনি।
এরপরে বিএসইসি চেয়ারম্যান উপস্থিত সবাইকে আগামি ৩-৪ দিনের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আহ্বান করেছেন। যদি কোন বিষয় বাদ পড়ে থাকে, সেগুলোকেও অন্তর্ভূক্ত করার জন্য বলেছেন। পরে উক্ত পরামর্শগুলো অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে উপস্থাপন করবেন বলে জানান তিনি। যা অর্থমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমাধানে এগিয়ে আসবেন বলে সবাইকে তিনি আশ্বস্ত করেন।
গ্রামীনফোনের উপর এনবিআর কতৃর্ক আরোপিত কর আরোপ করার বিষটি বিএসইসি’র চেয়ারম্যানের নজরে আনলে তিনি আন্তমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে উক্ত বিষয়ের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ ইমন জানান, ডিএসই এসএমই বোর্ড চালুর ব্যাপারে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সময় প্রাপ্তি সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএমই বোর্ড উদ্বোধন করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, বন্ড মার্কেট চালুর ব্যাপারে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্ড মার্কেটে লেনদেনের ক্ষেত্রে উৎসে কর ০.০৫ শতাংশ রয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবী জানান।
বিএমবি’র প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ কর কেটে বিএফটিএন এর মাধ্যমে বিও একাউন্টে ট্যান্সফার করা হয়। এক্ষেত্রে লিখিত কোন সার্টিফিকেট শেয়ারহোল্ডারকে দেয়া হয় না। লভ্যাংশ থেকে কর কর্তনের পর নীট টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে আইন অনুযায়ী একটি সার্টিফিকেট শেয়ারহোল্ডারদের দেয়ার ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হলে, এ ব্যাপারে সব ইসু্য়ারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার বিষয়ে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান সম্মতি প্রকাশ করেছেন।
ব্রোকারদের এপিআই দেয়ার জন্য বিএসইসি’র চেয়ারম্যান একমত পোষণ করে বলেন, এ ব্যাপারে ডিএসই এবং সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হবে।