সবুজ-শ্যামলে ঘেরা আমাদের এই রুপসী বাংলাদেশ।প্রকৃতি যেন নিজ হাতে ঢেলে সাজিয়েছে এই বাংলার গ্রামীণ জনপদ।এই দেশের প্রত্যন্ত এলাকার প্রত্যেক পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী অসংখ্য নিদর্শন।যা শুধু মাত্র আমাদেরই একান্ত সম্পদ।তবে এসবের মধ্যে অনেক মূল্যবান ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
একসময় গ্রাম-বাংলার প্রতিটি বাড়ির খুলিতে শোভা পেত দুই চাকার গরুর গাড়ি।বাঁশ,কাঠ,লোহার হাইল দিয়ে বানানো হয় এসব গরুর গাড়ি।সবুজ ধানের ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে গরুর গাড়িতে চড়ে যখন মাঠ অতিক্রম করতাম। তখন মনে হত পৃথিবীর সকল সুখ মনে হয় এই গরুর গাড়িতে ভ্রমণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। সে সময় গরুর গাড়ি ছাড়া গ্রামীন জীবন যেন ভাবাই যেত না।
এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম ছিল এই গরুর গাড়ি।গরুর গাড়িতে করে বিয়ে নিয়ে যাওয়া হত এক গ্রাম হতে আরেক গ্রামে।ধীর গতির কারনে অনেক সময় দুরের রাস্তা পাড়ি দিতে সারাদিন কেটে যায়।সেসময় গাড়িতে চরে মুড়ি,মুড়কি,কিংবা রুটি খাওয়ার তুলনায় হয় না।
শৈশবে বহুদিন বাড়ির লোকজনের অজান্তে গরুগুলোকে গাড়ির সাথে জুড়ে দিয়ে দুরের রাস্তায় রওয়ানা দিতাম।সন্ধ্যোবেলায় আবার বাসায় ফিরতাম।আমাদের বাসা থেকে ফুপুর বাড়ির দুরত্ব ছিল ৭ কিলোমিটার।তবে সে রাস্তা মোটেও সহজ ছিল না। ফুপুর বাড়ি যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত ভাঙ্গা-চোরা ছিল তাই সে পথে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল গরুর গাড়ি।
এখন গ্রামের আশে-পাশের সকল রাস্তা-ঘাট পাকা হয়ে গেছে তাই গরু গাড়ির আর প্রয়োজন পড়ে না।আমাদের গ্রামে একসময় প্রত্যেক বাড়িতে কমপক্ষে একটি করে গরুর গাড়ি ছিল।তবে এখন পুরো গ্রামে একটিও নেই।
আজো ও কানে ভেসে আসে গরুর গাড়িতে চড়ে শোনা সেই বিখ্যাত ভাওয়াইয়া গান।
‘ও কী গাড়িয়াল ভাই কত রব পন্থের দিকে চাহিয়া রে.......।’
সানবিডি/নুরুজ্জামান