অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন, পুঁজিবাজার খারাপ অবস্থানে নেই। পৃথিবীর সব দেশেই সূচকের এমন উঠা-নামা আছে। আমাদের দেশ এর বাহিরে নয়। এখন বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সঠিক অবস্থানে রয়েছে।
পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক দরপতনকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ মাস ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত ২৪ জানুয়ারি ডিএসইর প্রধান সূচক ছিলো ৫৯৫০ পয়েন্ট। গত ২১ এপ্রিল এই সূচক দাঁড়িয়েছে ৫৩২৪ পয়েন্টে। এসময় সূচক কমেছে ৬২৬ পয়েন্ট বা ১০.৫২ শতাংশ। আর ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকার বাজার মূলধন নেমে এসেছে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে ২৩ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার দাম কমেছে। বাজারের এমন পতনে বিনিয়াগকারীরা রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছে। নিয়মিত ডিএসইর সামনে পতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভও করছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো আসাদুল ইসলাম, বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন, কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী,ড.স্বপন কুমার বালা এবং বিচারপতি কামালুজ্জান।
মন্ত্রী বলেন, সূচক পতনের পিছনো কারো না কারো হাত আছে। ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে আমরা এই বিষয়গুলো দেখেছি। এর পেছনে যারা আছে, তাদের খোঁজে বের করতে হবে। দেশের অর্থিনীতি বড় হবে; আর পুঁজিবাজার পিছিয়ে থাকবে এমনটি হতে পারেনা।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার এখন স্বাভাবিক আছে। সূচক ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্ট গিয়েছে। সেখান থেকে ৫ হাজার ৩০০ পয়েন্ট এসছে। জাপানের পুঁজিবাজারে ১৯৮৯ সালে সূচক ছিল ৩৯ হাজার; সেখান থেকে ২০০৭ সালে মাত্র ৭ হাজার পয়েন্টে নেমে আসে। এমনকি আমাদের পাশের দেশ ভারতে সূচক ২১ হাজার পয়েন্ট থেকে ৭ হাজার পয়েন্ট এ নেমে এছেছিলো। বিশ্বের সব দেশের পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন ঘটেই, এটা কোন বিষয় না বাংলাদেশের পুঁজিবাজারওএর বাহিরে নয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে আসুক। তারা আসলে বিনিয়োগ বাড়বে; দেশে কর্মসংস্থান হবে, ছেলে মেয়েরা চাকরী পাবে। তবে কাউকে জোড় করে আনা যাবে না।
একসময় পুঁজিবাজারে মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ৮০-৯০ ছিল বলে জানান আ হ ম মুস্তফা কামাল। এখন সেটা ১৫-২০ এর ঘরে রয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় পুঁজিবাজার ভালো অবস্থানে রয়েছে। পিই কম থাকা বাজারের জন্য ভালো। এখন শেয়ার দর অতিমূল্যায়িত অবস্থায় নেই।
সান বিডি/এসকেএস