পুঁজিবাজারে সুশাসনের অভাব রয়েছে। এই সুশাসনের অভাব থাকার কারণে নির্বাচনের আগে সূচক কিছুটা বাড়লেও নির্বাচনের পর তা আবার নিম্নমুখী ধারায় দেখা যাচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাজারের গতি আসবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেনসেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌহিদুল ইসলাম খান।
পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরী বলে মনে করনে তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশে এখনো পুঁজিবাজার সংস্কারের জন্য একটি বড় জায়গা হিসেবে রয়েছে। আগামি দিনে সংস্কারের জায়গা হিসেবে এই পুঁজিবাজারকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে বিভিন্ন অনিয়মের ক্ষেত্রে বিএসইসির যতটা জোড়ালো অবস্থান রাখা দরকার, ততটা রাখে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেয় বটে, তবে যতটা দরকার-ততটা না। এমনও অভিযোগ আছে, একজন যে পরিমাণ অনিয়ম করে থাকেন, তাকে তুলনামূলক কম শাস্তি দেওয়া হয়। যাতে অনিয়মকারীরা আরও উৎসাহিত হয়।
নির্বাচনের পূর্ব থেকে পুঁজিবাজারের উল্লম্ফন শুরু হয় বলে জানান গোলাম মোয়াজ্জেম। ঠিক এক মাস পরে আবার পতন শুরু হয়। এখানে কৃত্রিমভাবে শেয়ারবাজারের উল্লম্ফন করা হয়েছিল কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এবং বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিককালে মিডিয়ায় রিপোর্ট এসেছে। যেখানে এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত উঠা-নামানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পুঁজিবাজারে এ ধরনের উঠা-নামা হওয়ার কথা না। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় উঠা-নামা হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, কেউ যদি বলে থাকেন, সূচক বেশি উঠেনি বা নামেনি-এটি কারও মূল্যায়ন থেকে আসার কথা না। বাজারে চাহিদার সাথে উঠা-নামার বিষয়টি থাকা উচিত।
সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক সময় পুঁজিবাজারে কিছু সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে এবং জানতে পেরেছি। এরমধ্যে একটি বড় সমস্যা প্লেসমেন্ট শেয়ার। এ নিয়ে গণমাধ্যমে নিউজ এসেছে। যেখানে ইনফরমাল মার্কেট গড়ে উঠার অভিযোগ রয়েছে। এবং সরকার বিষয়টি সংস্কারে কাজ করছে।
দ্বিতীয়ত যে কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে যে রিপোর্টি জমা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে বলে জানান গোলাম মোয়াজ্জেম। এমনকি বিএসইসির চেয়ারম্যানও রিপোর্টগুলো নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। যে রিপোর্টগুলো তথ্য উপাত্তের দিক দিয়ে ভুল। যেখানে অনেক ধরনের দুষ্টতা থাকতে পারে। যে কারনে নতুন কোন কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার কিছুদিন পরে অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে যায়। এখান থেকে প্রতিয়মান হয় যে, কোম্পানিগুলো যেভাবে এবং যারা মূল্যায়ন করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বড় কোন ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সান বিডি/এসকেএস