কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় মাহুত সহ একটি হাতি রাস্তায় চাঁদা আদায় করছিল।এসময় পাঁচ টাকা চাঁদা দেয়ায় আবদুল বাতেন (৪৫) নামে এক রিকশাচালককে শুঁড়ে তুলে ছুড়ে আছাড় দিয়েছে হাতি।
রিক্সাচালক বাতেন চাঁদা কম দেয়ায় হাতির আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রিকশাচালক বাতেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বাতেন কুলিয়ারচর উপজেলার আগরপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে এ ঘটনায় হাতির মাহুত এনামুল হককে (১৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি নরসিংদীর শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামের ফয়েজ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আগরপুর রাস্তায় হাতি নিয়ে আসেন মাহুত এনামুল। এ সময় ওই সড়কে রিকশা চালাচ্ছিলেন আবদুল বাতেন।
একপর্যায়ে হাতি তার রিকশা থামায় এবং শুঁড় বাড়িয়ে দেয়। মাহুত এনামুল হক জানান, হাতি তার কাছে ১০ টাকা নেবে। কিন্তু বাতেন ৫ টাকা দিলে হাতি সেটি নেয়নি। মাহুত জানান, ১০ টাকার কম দিলে হাতি নেয় না।
বাতেনও বেশি দিতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে হাতির মাহুতের সঙ্গে তার তর্ক হয়। একপর্যায়ে হাতি ক্ষিপ্ত হয়ে চালককে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে সজোরে ছুড়ে দেয়। এতে পাশের এক বাড়ির দেয়ালে গিয়ে আছড়ে পড়েন বাতেন।
পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মাহুত এনামুল জানান, হাতিটির মালিক নরসিংদীর কাজল মিয়া। মাসে ৫ হাজার টাকায় তিনি হাতিটি ভাড়ায় এনেছেন।
কুলিয়ারচর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) পারভেজ আলম সেলিম জানান, হাতি নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির অভিযোগে বুধবার আহত বাতেনের স্ত্রী বকুলা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় মাহুত এনামুল, হাতির মালিকসহ আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।