চলতি মাসেই পদ্মাসেতুর নতুন তিনটি স্প্যান বসানো হবে।এর ফলে পদ্মাসে্তুর ছয় কিলোমিটারের মধ্যে দুই কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে। এই তিনটি স্প্যানের মধ্যে প্রথমটি বসানোর কথা ছিল আগামী ৩ মে। তবে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে আপাতত এই দিনটিতে স্প্যান বসানোর কাজ স্থগিত করা হয়েছে। ফণীর প্রভাব কেটে গেলে বসানো হবে দ্বাদশ এই স্প্যানটি। এরপর আগামী ১০ মে ১৩তম স্প্যান এবং ৩০ মে বসবে ১৪ তম স্প্যান।
নতুনভাবে এই তিনটি স্প্যান বসলে পদ্মাসেতুর ২ হাজার ১০০ মিটার স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এর মাধ্যমে সেতুর অগ্রগতি ৮০ শতাংশে পৌঁছবে বলে মনে করছে সেতু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)।
পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মাস থেকে স্প্যান বসানো বেড়ে যাবে। মাসে তিন থেকে চারটি, এরপর প্রতি সপ্তাহে স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এমবিইসি সূত্র জানায়, সেতুর দ্বাদশ স্প্যানটি বসবে পদ্মানদীর ঠিক মাঝখানে, ২০ ও ২১ নম্বর পিলারের ওপরে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে আপাতত এই স্প্যান বসানোর তারিখ চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। এরপর ১০ মে ১৪ ও ১৫ নম্বর পিলারের ওপর এবং ৩০ মে ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারে আরেকটি স্প্যান বসানো হবে।
এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল পদ্মাসেতুতে একাদশ স্প্যান বসানো হয়। একাদশ স্প্যান বসানোর পর সেতু দৃশ্যমান হয়েছিল ১৬৫০ মিটার। চলতি মাসে তিনটিসহ পদ্মাসেতুতে ১৪টি স্প্যান বসানোর পর বাকি থাকবে ২৭টি স্প্যান। এদিকে, পদ্মাসেতুতে ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৫০টির বেশি পাইল বসানো হয়েছে। পদ্মাসেতুর পিয়ার বা খুঁটি ৪২টি। এর মধ্যে ২৪টি খুঁটির নির্মাণ শেষ। আগামী জুন মাসের মধ্যে বাকি আরও ১০টি খুঁটির নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন স্প্যান বসানোর গতি আরও বাড়বে বলে জানান পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।
সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং (এমবিইসি) সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা পদ্মাসেতু গড়তে তাদের সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করতে হয়েছে পদ্মার তলদেশে। তলদেশে মাটির গঠনগত বৈচিত্রের কারণে ১১ পিয়ারের নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। শুরুর দিকে মাওয়া অংশে কাজ বাদ দিয়ে জাজিরা চলে যেতে হয়েছে। তারপর বছরখানেক পর পুনরায় পিয়ার ডিজাইন হাতে পাওয়ার পর মাওয়া অংশে কাজ শুরু হয়।
পদ্মাসেতুর মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, সেখানেই প্রস্তুত করা ২১টি স্প্যানের মধ্যে এর মধ্যে ১১টি স্থান বসে গেছে। আর জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মাসেতুর রোড স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ছয়লেন প্রশস্ত পাঁচটি রোড স্ল্যাব বসে গেছে। আর ভেতরে রেলওয়ে স্লাব বসানোর কাজ চলছে।
পদ্মাসেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসবে। প্রস্তুত করে রাখা আছে প্রায় ৩৫০ রোডওয়ে স্ল্যাব। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ২৯২টি স্ল্যাব বসেছে স্প্যানগুলোতে।
সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী বছরের শেষদিকে পুরোপুরি কাজ শেষ হবে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর।