
চার বছর আগে লম্বা লিকলিকে এক কিশোর পেসারকে দেখে অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এই ছেলেটা একদিন পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলবে। ইতিমধ্যে তার সেই কথা ফলে গেছে। পাক মূল দলে খেলছেন মোহাম্মদ হাসনাইন। শুধু তাই নয়, আছেন বিশ্বকাপ দলেও। ১৯ বছর বয়সী ডানহাতি কিশোরকেই বলা হচ্ছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বাজির ঘোড়া।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন হাসনাইন। সেই সফরে স্বাগতিক অনূর্ধ্ব-১৫ দলের বিপক্ষে সিডনিতে ১৫০ কিলোমিটার বেগের আগুনের গোলা ছুড়েন তিনি। মাঠে বসে ম্যাচটি দেখেন ওয়াহ ও তার ছেলে অস্টিন। বলটি দেখে অবাক না হয়ে পারেননি অজি সাবেক অধিনায়ক। এ বয়সী এক কিশোরের বলে এমন গতি দেখে সেদিন চমকে গিয়েছিলেন তিনি। রীতিমতো ভ্রু কুচকে গিয়েছিল তার।
হাসনাইন সেই গতি ধরে রেখেছেন। সবশেষ পিএসএলে তা দিয়েই পাকিস্তানের নির্বাচকদের নজর কাড়েন। সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় দলে। ইতিমধ্যে ওয়ানডে অভিষেকও ঘটেছে তার। চলতি বছর চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচে মাত্র দুই উইকেট পেয়েছেন তিনি। তবে ওর গতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে খোদ ইনফর্ম অ্যারন ফিঞ্চের মতো ব্যাটসম্যানকে।
ইংলিশ কন্ডিশনে চমক দেখাতে পারেন- এই ভাবনা থেকে তাকে বিশ্বকাপ দলে নেয়া। পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ হবেন হাসনাইন।
প্রচণ্ড গতিতে বল করতে পারার সক্ষমতার কারণে পেসকেই অস্ত্র মানেন এ টিনএজার। এ অস্ত্র দিয়েই বিশ্বকাপে মাতাতে চান ১৯ বছর বয়সী পেসার। হাসনাইন বলেন, আমি শিহরিত। আমার গতি দিয়েই ব্যাটসম্যানদের বুকে কাঁপন ধরাতে চাই। আমি জোরে বল করতে ভালোবাসি। আর এটাই আমার অস্ত্র।